০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূলের বিদায়ে ‘স্বস্তির নিঃশ্বাস’ পরমব্রতর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৪ Time View

বিনোদন ডেস্ক

সদ্য শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা উঠেছিল, কিন্তু তা বাস্তবে হয়নি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের হয়ে বক্তব্যও রাখতে দেখা গিয়েছিল অভিনেতাকে। সেসময় সেই বক্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভিন্ন সুরে কথা বলতে দেখা গেল এই অভিনেতাকে। তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজ্যের রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংবাদ প্রতিদিনকে অভিনেতা বলেন, ‘আসলে জনসাধারণের মধ্যে একটা রাগ ছিল। সেই রাগটা থাকা স্বাভাবিক। কারণ তৃণমূলের ক’জন নেতামন্ত্রী, বিধায়কের জুলুমবাজি জনতার কাছে মমতা বন্দোপাধ্যায়র ভালো কাজকে গৌণ করে দিয়েছে।

এটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও স্বীকার করবেন। সেখানে আমি তো তৃণমূল পার্টির সদস্য কিংবা কর্মীও নই।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলার প্রাক্তন শাসক দলের যেমন কিছু ভালো প্রকল্প, কাজ ছিল, তেমনই তাদের একটা অংশের কর্মীদের ঔদ্ধত্য, মানুষের জীবনে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা, একই সঙ্গে দুর্নীতি – এগুলো কোনওটাই তো অস্বীকার করা যায় না।’

তাহলে এত সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও কেন তৃণমূলের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তার কথায়, ‘ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, সেটা আমার অসাংবিধানিক মনে হয়েছে। আর গণতান্ত্রিক দেশে কোনও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করার অধিকারও আমার রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে বামেরা সেভাবে নেই, আর কংগ্রেস তো অস্তিত্ব সংকটে, তাই প্রতিবাদের পথ হিসেবে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছিলাম। তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল এবং রয়েছে। উনিও জানতেন, আমি এসআইআর বিরোধী। সেকারণেই নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বেশ ক’টা প্রচারে গিয়েছিলাম।’

এছাড়া রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সিনেমা শিল্পে কেমন পড়তে পারে, সে বিষয়েও মত দিয়েছেন তিনি। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘তৃণমূল সরকার সিনেশিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা কোনভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর একটা সময়ে আমাকে অব্যাহতি চাইতেই হয়…।’

বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও গত এক বছরে কম বিতর্ক হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে অভিনেতার মন্তব্য, ‘তৃণমূল সরকার সিনেশিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা কোনভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর একটা সময়ে আমাকে অব্যাহতি চাইতেই হয়। আর আমার সেই লড়াইয়ের উপরই রাজনৈতিক রং লাগিয়ে দেওয়া হয়। অনেকের মতো আমাকেও অনেক অপমান হজম করতে হয়েছে। নির্বাচনী রেজাল্ট নিয়ে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কাঁটাছেড়া হতে পারে, কিন্তু এহেন ফলাফলে যদি আখেরে সিনেমার উন্নতি হয় কিংবা ফেডারেশনের খবরদারি বন্ধ হয়, তাহলে সেটা স্বস্তির।’

তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত সম্মান অটুট থাকবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তৃণমূলের বিদায়ে ‘স্বস্তির নিঃশ্বাস’ পরমব্রতর

Update Time : ০২:২২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক

সদ্য শেষ হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ার জল্পনা উঠেছিল, কিন্তু তা বাস্তবে হয়নি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের হয়ে বক্তব্যও রাখতে দেখা গিয়েছিল অভিনেতাকে। সেসময় সেই বক্তব্যের জেরে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি।

কিন্তু নির্বাচনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভিন্ন সুরে কথা বলতে দেখা গেল এই অভিনেতাকে। তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজ্যের রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গন নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংবাদ প্রতিদিনকে অভিনেতা বলেন, ‘আসলে জনসাধারণের মধ্যে একটা রাগ ছিল। সেই রাগটা থাকা স্বাভাবিক। কারণ তৃণমূলের ক’জন নেতামন্ত্রী, বিধায়কের জুলুমবাজি জনতার কাছে মমতা বন্দোপাধ্যায়র ভালো কাজকে গৌণ করে দিয়েছে।

এটা তৃণমূলের অতি বড় সমর্থকও স্বীকার করবেন। সেখানে আমি তো তৃণমূল পার্টির সদস্য কিংবা কর্মীও নই।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলার প্রাক্তন শাসক দলের যেমন কিছু ভালো প্রকল্প, কাজ ছিল, তেমনই তাদের একটা অংশের কর্মীদের ঔদ্ধত্য, মানুষের জীবনে ঢুকে যাওয়ার চেষ্টা, একই সঙ্গে দুর্নীতি – এগুলো কোনওটাই তো অস্বীকার করা যায় না।’

তাহলে এত সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও কেন তৃণমূলের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তার কথায়, ‘ভোটার তালিকা থেকে যেভাবে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, সেটা আমার অসাংবিধানিক মনে হয়েছে। আর গণতান্ত্রিক দেশে কোনও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করার অধিকারও আমার রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে বামেরা সেভাবে নেই, আর কংগ্রেস তো অস্তিত্ব সংকটে, তাই প্রতিবাদের পথ হিসেবে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছিলাম। তাছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল এবং রয়েছে। উনিও জানতেন, আমি এসআইআর বিরোধী। সেকারণেই নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বেশ ক’টা প্রচারে গিয়েছিলাম।’

এছাড়া রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সিনেমা শিল্পে কেমন পড়তে পারে, সে বিষয়েও মত দিয়েছেন তিনি। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘তৃণমূল সরকার সিনেশিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা কোনভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর একটা সময়ে আমাকে অব্যাহতি চাইতেই হয়…।’

বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও গত এক বছরে কম বিতর্ক হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে অভিনেতার মন্তব্য, ‘তৃণমূল সরকার সিনেশিল্পটা এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা কোনভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই ক্ষমতার আস্ফালনের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নেমেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের সব কাজ নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর একটা সময়ে আমাকে অব্যাহতি চাইতেই হয়। আর আমার সেই লড়াইয়ের উপরই রাজনৈতিক রং লাগিয়ে দেওয়া হয়। অনেকের মতো আমাকেও অনেক অপমান হজম করতে হয়েছে। নির্বাচনী রেজাল্ট নিয়ে বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কাঁটাছেড়া হতে পারে, কিন্তু এহেন ফলাফলে যদি আখেরে সিনেমার উন্নতি হয় কিংবা ফেডারেশনের খবরদারি বন্ধ হয়, তাহলে সেটা স্বস্তির।’

তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত সম্মান অটুট থাকবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।