সবুজদিন ডেস্ক
দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে একাধিক মেগা প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করছে সরকার। পরিকল্পনার আওতায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১ মার্চ সেতু বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য সময়সীমা ও ব্যয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩২ সালের মধ্যে। সেতুটি জাতীয় মহাসড়ক এন৫ ও এন৭-এর সঙ্গে সংযুক্ত হবে এবং এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল, দর্শনা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহন দ্রুততর ও সাশ্রয়ী হবে। বর্তমানে এ সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই (প্রাথমিক সমীক্ষা) পুনরায় শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, যানজট নিরসনে যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যমুনা সেতু-এর ওপর চাপ কমাতে ২০৩৩ সালের মধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য তিনটি রুট নিয়ে সমীক্ষা চলছে।
এছাড়া দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এ যানবাহনের চাপ কমাতে একটি আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেতু বিভাগ এ রুটে একটি এলিভেটেড (উড়াল) এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সেতু বিভাগের অধীনে মোট ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে, যার বড় অংশই নতুন মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন আধুনিক হবে, তেমনি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও গতি আসবে।
Reporter Name 











