০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে পারস্য উপসাগর-হরমুজ প্রণালি : মোজতবা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী ‘নতুন এক অধ্যায়ে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নতুন অধ্যায়ে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর এমন একটি নতুন ব্যবস্থাপনার অন্তর্গত হবে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশের জন্য উন্নতি এবং কল্যাণ বয়ে আনবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক লিখিত বার্তায় এ কথা বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। লিখিত বার্তায় তিনি বলেছেন, “আজ, মধ্যপ্রাচ্যে বৈশ্বিক গুন্ডাদের সামরিক মোতায়েন ও আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের লজ্জাজনক পরাজয়ের ২ মাস পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।”

“হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগরকে একটি নতুন ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি সক্রিয় হলে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিরাপত্তা দেবে তেহরান, এবং এ দুই জলপথকে শত্রুদের অপব্যবহার থেকে মুক্ত করবে।”

“হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর হলে হরমুজে শান্তি ফিরে আসবে এবং এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর উন্নতি হবে, অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে তারা।”

উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযোগকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের ৫ ভাগের একভাগ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিরোধের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল; শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ-ইসরায়েল যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রথম দিকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান।

পরে দেশটির ইসরামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং তাদের যেসব মিত্র এই যুদ্ধে দুই দেশকে সহযোগিতা করছে— তাদের জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করলেই হামলা চালানো হবে। তবে যেসব দেশ এ যুদ্ধের বিপক্ষে— তারা সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এবং তাদের টোল প্রদান করে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। হরমুজ দিয়ে যেসব বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করে সেগুলোর অধিকাংশই তেলবাহী। গত মার্চে ইরানের পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই আইনে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশে জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাবে— প্রতি ব্যারেলে তেল ১ ডলার হিসেবে টোল দিতে হবে সেই জাহাজগুলোকে।

তবে ইরানের এই পদক্ষেপে চরম আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমান কয়েক দিন আগে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে টোল দিতে রাজি নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে পারস্য উপসাগর-হরমুজ প্রণালি : মোজতবা

Update Time : ০৩:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালী ‘নতুন এক অধ্যায়ে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নতুন অধ্যায়ে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর এমন একটি নতুন ব্যবস্থাপনার অন্তর্গত হবে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশের জন্য উন্নতি এবং কল্যাণ বয়ে আনবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক লিখিত বার্তায় এ কথা বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। লিখিত বার্তায় তিনি বলেছেন, “আজ, মধ্যপ্রাচ্যে বৈশ্বিক গুন্ডাদের সামরিক মোতায়েন ও আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের লজ্জাজনক পরাজয়ের ২ মাস পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।”

“হরমুজ প্রণালি এবং পারস্য উপসাগরকে একটি নতুন ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি সক্রিয় হলে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোকে নিরাপত্তা দেবে তেহরান, এবং এ দুই জলপথকে শত্রুদের অপব্যবহার থেকে মুক্ত করবে।”

“হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর হলে হরমুজে শান্তি ফিরে আসবে এবং এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর উন্নতি হবে, অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে তারা।”

উল্লেখ্য, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযোগকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের ৫ ভাগের একভাগ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিরোধের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল; শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ-ইসরায়েল যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রথম দিকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান।

পরে দেশটির ইসরামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং তাদের যেসব মিত্র এই যুদ্ধে দুই দেশকে সহযোগিতা করছে— তাদের জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করলেই হামলা চালানো হবে। তবে যেসব দেশ এ যুদ্ধের বিপক্ষে— তারা সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এবং তাদের টোল প্রদান করে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। হরমুজ দিয়ে যেসব বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করে সেগুলোর অধিকাংশই তেলবাহী। গত মার্চে ইরানের পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই আইনে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশে জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাবে— প্রতি ব্যারেলে তেল ১ ডলার হিসেবে টোল দিতে হবে সেই জাহাজগুলোকে।

তবে ইরানের এই পদক্ষেপে চরম আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ওমান কয়েক দিন আগে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ইরানকে টোল দিতে রাজি নয়।