০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ সংকট যত দিন থাকবে, পরিণতি আরো গুরুতর হবে: জাতিসংঘ মহাসচিব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান সংকট লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বাড়তে পারে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার প্রকোপ। এমনকি বিশ্বকে মন্দার দিকেও ঠেলে দিতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক মন্তব্যে মহাসচিব বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্বাস রোধ হচ্ছে। গুতেরেস এই প্রণালির মধ্য দিয়ে অবাধ চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা করেন।

তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথটি তেল, গ্যাস, সার এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়া হলেও সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

ফলে নিম্ন অর্থনৈতিক উৎপাদন এবং উচ্চমূল্য অনেক সময় ধরে থাকতে পারে।’ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় এখনো বিপর্যস্ত বিশ্বের জন্য তিনটি সম্ভাব্য গতিপথ তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.১ শতাংশে নেমে আসবে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৪ শতাংশ হবে এবং বাণিজ্য তীব্রভাবে হ্রাস পাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি ইরানের হামলা ও হুমকি এবং বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে থাকে, তবে এর পরিণতি আরো গুরুতর হবে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের ৩২ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়বে।

এ ছাড়া সারের ঘাটতিতে ফসলের ফলন কমে যাওয়ায় আরো ৪৫ মিলিয়ন মানুষ চরম ক্ষুধার সম্মুখীন হবে এবং কষ্টার্জিত উন্নয়নের সাফল্য রাতারাতি উল্টে যেতে পারে।’

গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা একটি বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কার সম্মুখীন হব। এর নাটকীয় প্রভাব পড়বে মানুষ, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর। এই গুরুত্বপূর্ণ ধমনিটি যত বেশি দিন রুদ্ধ থাকবে, ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া তত কঠিন হবে।’

গুতেরেস মার্কিন-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘সব পক্ষের প্রতি আমার বার্তা স্পষ্ট। নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করতে হবে। প্রণালিটি খুলে দাও। সব জাহাজকে যেতে দাও। বিশ্ব অর্থনীতি আবার শ্বাস নিক।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ সংকট যত দিন থাকবে, পরিণতি আরো গুরুতর হবে: জাতিসংঘ মহাসচিব

Update Time : ০১:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান সংকট লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বাড়তে পারে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার প্রকোপ। এমনকি বিশ্বকে মন্দার দিকেও ঠেলে দিতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক মন্তব্যে মহাসচিব বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্বাস রোধ হচ্ছে। গুতেরেস এই প্রণালির মধ্য দিয়ে অবাধ চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা করেন।

তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথটি তেল, গ্যাস, সার এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়া হলেও সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

ফলে নিম্ন অর্থনৈতিক উৎপাদন এবং উচ্চমূল্য অনেক সময় ধরে থাকতে পারে।’ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় এখনো বিপর্যস্ত বিশ্বের জন্য তিনটি সম্ভাব্য গতিপথ তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.১ শতাংশে নেমে আসবে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৪ শতাংশ হবে এবং বাণিজ্য তীব্রভাবে হ্রাস পাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি ইরানের হামলা ও হুমকি এবং বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে থাকে, তবে এর পরিণতি আরো গুরুতর হবে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের ৩২ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়বে।

এ ছাড়া সারের ঘাটতিতে ফসলের ফলন কমে যাওয়ায় আরো ৪৫ মিলিয়ন মানুষ চরম ক্ষুধার সম্মুখীন হবে এবং কষ্টার্জিত উন্নয়নের সাফল্য রাতারাতি উল্টে যেতে পারে।’

গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা একটি বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কার সম্মুখীন হব। এর নাটকীয় প্রভাব পড়বে মানুষ, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর। এই গুরুত্বপূর্ণ ধমনিটি যত বেশি দিন রুদ্ধ থাকবে, ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া তত কঠিন হবে।’

গুতেরেস মার্কিন-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘সব পক্ষের প্রতি আমার বার্তা স্পষ্ট। নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করতে হবে। প্রণালিটি খুলে দাও। সব জাহাজকে যেতে দাও। বিশ্ব অর্থনীতি আবার শ্বাস নিক।’