০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে ইফতারের আমন্ত্রণ জানালো জামায়াতে ইসলামী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৭২ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দাওয়াত দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের এই দাওয়াত গ্রহণ করেছেন। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতাদের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুভেচ্ছা বিনিময় সম্পন্ন হয়।
সাক্ষাৎকার চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুঠোফোনের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, রাজনীতির যাবতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ।
তার এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জামায়াত নেতারা উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হতেই পারে, তবে অতীতে রাজনীতিতে যেসব নেতিবাচক চর্চা দেখা গেছে তার পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়। তারা মনে করেন, বর্তমান সরকারকে মূল্যায়নের সময় এখনো আসেনি এবং পুরো জাতি সামনের দিনগুলোতে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাক্ষাত শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় ও সহংহিতর পরিবেশ থাকা জরুরি। তারা বিশ্বাস করেন, জাতীয় সংসদে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর সমাধান সম্ভব।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এই নতুন ধারা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রতিনিধি দলটি মনে করছে। ইফতার মাহফিলের এই আমন্ত্রণকে তারা রাজনৈতিক সম্প্রীতি স্থাপনের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে জামায়াত নেতারা বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোকপাত করেন। তারা মনে করেন, সুন্দর সমন্বয়ের মাধ্যমেই দেশটিকে একটি স্থিতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।
২৮ ফেব্রুয়ারির ওই ইফতার অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজকের এই আলোচনার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে ইফতারের আমন্ত্রণ জানালো জামায়াতে ইসলামী

Update Time : ০৩:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দাওয়াত দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সপরিবারে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের এই দাওয়াত গ্রহণ করেছেন। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত নেতাদের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুভেচ্ছা বিনিময় সম্পন্ন হয়।
সাক্ষাৎকার চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুঠোফোনের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, রাজনীতির যাবতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ।
তার এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জামায়াত নেতারা উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হতেই পারে, তবে অতীতে রাজনীতিতে যেসব নেতিবাচক চর্চা দেখা গেছে তার পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়। তারা মনে করেন, বর্তমান সরকারকে মূল্যায়নের সময় এখনো আসেনি এবং পুরো জাতি সামনের দিনগুলোতে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাক্ষাত শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি সুন্দর সমন্বয় ও সহংহিতর পরিবেশ থাকা জরুরি। তারা বিশ্বাস করেন, জাতীয় সংসদে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর সমাধান সম্ভব।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এই নতুন ধারা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রতিনিধি দলটি মনে করছে। ইফতার মাহফিলের এই আমন্ত্রণকে তারা রাজনৈতিক সম্প্রীতি স্থাপনের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে জামায়াত নেতারা বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোকপাত করেন। তারা মনে করেন, সুন্দর সমন্বয়ের মাধ্যমেই দেশটিকে একটি স্থিতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।
২৮ ফেব্রুয়ারির ওই ইফতার অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজকের এই আলোচনার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।