সবুজদিন রিপোর্ট।।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ার জেরে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইদিন ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট রাতে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আলীকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসীর ছেলের ইন্ধনে একপর্যায়ে তার স্ত্রী হোসনা বেগম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রুহুল আমিনকে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দিলে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে প্রবেশ করেন। পরে ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বৃদ্ধের মুখে রক্ত ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরে দোয়ারাবাজার থানার এসআই আমির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রোববার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে হোসনা বেগম (৩৮), রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করে।
এদের মধ্যে হোসনা বেগম হত্যার শিকার বৃদ্ধার ছেলে ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী এবং রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 




















