১১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, ওমান-কাতারসহ ৫ দেশে ভয়াবহ হামলা ইরানের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনীর দাবি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান ও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা এসব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর জন্য ব্যবহৃত রসদ সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্মে ‘ভয়াবহ ও আকস্মিক’ হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় ওই স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত অভিযানের এটি তৃতীয় ধাপ।

অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতেও একাধিক দফায় বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরআইবির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদ গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

একই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও একটি রাডার স্থাপনাও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা বিভিন্ন উড়ন্ত বস্তু প্রতিহত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তারা জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কারণ হচ্ছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিরোধের কার্যক্রম। একই সঙ্গে জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, হামলায় ঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।

তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

আইআরজিসির আরও দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আইআরআইবির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এতে ঘাঁটির একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং এমকিউ-৯ ড্রোন সংরক্ষণের কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। তাই সবাইকে ঘরে অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর কিছু সময় পর রবিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় আবারও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই ধরনের নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

অন্যদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আবারও হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। এদিন সকালে এটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো এমন সতর্কসংকেত।

এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পুনরায় জানায়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কাতারমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কারণও এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

এ ছাড়া আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে এর জবাবে আরও ‘বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, ওমান-কাতারসহ ৫ দেশে ভয়াবহ হামলা ইরানের

Update Time : ১২:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনীর দাবি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান ও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তারা এসব হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের দুকম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর জন্য ব্যবহৃত রসদ সহায়তা কেন্দ্র ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্মে ‘ভয়াবহ ও আকস্মিক’ হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় ওই স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত অভিযানের এটি তৃতীয় ধাপ।

অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতেও একাধিক দফায় বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরআইবির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদ গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

একই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও একটি রাডার স্থাপনাও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা বিভিন্ন উড়ন্ত বস্তু প্রতিহত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তারা জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কারণ হচ্ছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিরোধের কার্যক্রম। একই সঙ্গে জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, হামলায় ঘাঁটির যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।

তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

আইআরজিসির আরও দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আইআরআইবির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এতে ঘাঁটির একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং এমকিউ-৯ ড্রোন সংরক্ষণের কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। তাই সবাইকে ঘরে অথবা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে এবং অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর কিছু সময় পর রবিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় আবারও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই ধরনের নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

অন্যদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আবারও হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। এদিন সকালে এটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো এমন সতর্কসংকেত।

এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পুনরায় জানায়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কাতারমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার কারণও এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

এ ছাড়া আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ একটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে এর জবাবে আরও ‘বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।