০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার শুরু হচ্ছে ২ দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বেয়ার সামিট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ০ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট। আগামী শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় ঢাকার নভোথিয়েটারে এ সামিটের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিয়ার সামিট ২০২৬।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির অংশীদারত্বে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সামিটে সরকারের নীতি নির্ধারক, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করবেন। তারা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)

আজকের এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতিই সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি উচ্চপ্রযুক্তি সক্ষম দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আরও বলেন, এ সামিটের মূল লক্ষ্য হলো— বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স শিল্পের বর্তমান অবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বিশ্ব দরবারে ও গণমাধ্যমে তুলে ধরা। এখানে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে স্টলগুলোতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে বায়োটেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক সম্পর্কে আগত দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ১১ প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হবে যেখানে গবেষক শিক্ষক বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন।

সচিব বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গঠনে একটি নতুন কৌশলগত ভিশন নিয়ে এগোচ্ছে আর সেটা হচ্ছে- `Science to Economy: Building a Market-Linked, Innovation-Driven Bangladesh’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, এ ভিশন বাস্তবায়নে আমরা ৪টি স্তম্ভের (Strategic Pillars) ওপর ভিত্তি করে কাজ করছি। ১)STEM & Human Resources Development: প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ধারাবাহিক মানবসম্পদ শৃঙ্খল (Human Resource Pipeline) তৈরি করা, ২) Research to Market (R2M) আওতায় কেবল গবেষণাপত্র প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে শিল্প ও বাজারে প্রয়োগযোগ্য পণ্য ও সেবায় রূপান্তর করা, ৩) Innovation to Market (I2M) এর আওতায় আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরুতে প্রথমবারের মতো “বাংলাদেশ জাতীয় উদ্ভাবন মেলা ২০২৬’ আয়োজন এবং ভার্চুয়াল হাই-টেক সাইন্স সিটির মাধ্যমে উদ্ভাবকদের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা, ৪)Frontier Technologies: সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, এআই, বায়োটেকনোলজি ও স্পেস রিসার্চ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে সচিব বলেন, সরকার, শিল্প খাত ও একাডেমিয়ার যৌথ সমন্বয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে ‘ন্যাশনাল এআই ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সামিটে বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নেতারা পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই এবং পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিস। সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধি, বিএসআইএর সদস্য প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ, বৈশ্বিক বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় এবং বিদেশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

তিনি বলেন, এসব আলোচনায় সেমিকন্ডাক্টর খাতের দক্ষ জনবল উন্নয়ন, ইকোসিস্টেম গঠন, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, গবেষণা, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা, বাণিজ্যিকীকরণ এবং উদীয়মান ডিপ-টেক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স অ্যান্ড পার্টনারশিপের মতো প্রতিষ্ঠানের নেতারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তাদের অংশগ্রহণ বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার প্রতিফলন ঘটাবে। ‘বাংলাদেশের ডিপ-টেক ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যে সামিটের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে ক্রেইস্ট ফেলোস রিসার্চ সিম্পোজিয়াম, যেখানে দেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর গবেষকদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করা হবে।

সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে বিয়ার ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হবে এবং এক্সপোতে মোট ৩৫টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট 2026 অনুষ্ঠানের ১১টি প্ল্যানারি সেশনে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতের পথচলা, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নেতৃত্ব বিষয়ক সংলাপ, বাংলাদেশের ডিপ-টেক (Deep-Tech) ভবিষ্যৎ, গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি প্লেনারি, টেকনোলজি কনভারজেন্স ও ভবিষ্যতের শিল্প, গ্লোবাল লিডারশিপ ও ডায়াসপোরা (প্রবাসী) ফোরাম, উদ্যোক্তা এবং ডিপ-টেক স্টার্টআপ বিষয়গুলো নিয়ে প্যানেল আলোচনা ও বিশ্লেষণ অনুষ্ঠিত হবে।

​উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে সচিব বলেন, আপনারাই দেশের প্রতিটি সম্ভাবনার কথা জনগণের কাছে পৌঁছে দেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স সেক্টরের যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে, সেটিকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে আপনাদের সহযোগিতা অপরিহার্য।

সচিব আরও বলেন, আমরা আশা করছি আপনারা সাংবাদিকরা আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং BEAR Summit 2026-এর অনুষ্ঠানমালা ও কর্মসূচি সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন মাধ্যমে সম্প্রচার ও ব্যাপকভাবে প্রচার করে দেশবাসীর কাছে এ সিম্পোজিয়াম ও সামিটের সংবাদ তুলে ধরবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, আইসিটি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব এনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানে (স্পেশাল রিমার্কস) বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। এছাড়া কি-নোট স্পিকার হিসেবে থাকবেন পারড্যু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সিলিকন রিভার ইনিশিয়েটিভের চিফ আর্কিটেক্ট প্রফেসর মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন এবং বিএসআইএর সভাপতি এম এ জাব্বার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শনিবার শুরু হচ্ছে ২ দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বেয়ার সামিট

শনিবার শুরু হচ্ছে ২ দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বেয়ার সামিট

Update Time : ০৮:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট। আগামী শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় ঢাকার নভোথিয়েটারে এ সামিটের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিয়ার সামিট ২০২৬।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির অংশীদারত্বে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সামিটে সরকারের নীতি নির্ধারক, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করবেন। তারা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)

আজকের এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতিই সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে একটি উচ্চপ্রযুক্তি সক্ষম দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আরও বলেন, এ সামিটের মূল লক্ষ্য হলো— বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স শিল্পের বর্তমান অবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বিশ্ব দরবারে ও গণমাধ্যমে তুলে ধরা। এখানে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে স্টলগুলোতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে বায়োটেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক সম্পর্কে আগত দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ১১ প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হবে যেখানে গবেষক শিক্ষক বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন।

সচিব বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গঠনে একটি নতুন কৌশলগত ভিশন নিয়ে এগোচ্ছে আর সেটা হচ্ছে- `Science to Economy: Building a Market-Linked, Innovation-Driven Bangladesh’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, এ ভিশন বাস্তবায়নে আমরা ৪টি স্তম্ভের (Strategic Pillars) ওপর ভিত্তি করে কাজ করছি। ১)STEM & Human Resources Development: প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ধারাবাহিক মানবসম্পদ শৃঙ্খল (Human Resource Pipeline) তৈরি করা, ২) Research to Market (R2M) আওতায় কেবল গবেষণাপত্র প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে শিল্প ও বাজারে প্রয়োগযোগ্য পণ্য ও সেবায় রূপান্তর করা, ৩) Innovation to Market (I2M) এর আওতায় আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরুতে প্রথমবারের মতো “বাংলাদেশ জাতীয় উদ্ভাবন মেলা ২০২৬’ আয়োজন এবং ভার্চুয়াল হাই-টেক সাইন্স সিটির মাধ্যমে উদ্ভাবকদের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা, ৪)Frontier Technologies: সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, এআই, বায়োটেকনোলজি ও স্পেস রিসার্চ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে সচিব বলেন, সরকার, শিল্প খাত ও একাডেমিয়ার যৌথ সমন্বয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণা ও নীতি নির্ধারণে ‘ন্যাশনাল এআই ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সামিটে বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নেতারা পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই এবং পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিস। সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধি, বিএসআইএর সদস্য প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদ, বৈশ্বিক বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় এবং বিদেশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।

তিনি বলেন, এসব আলোচনায় সেমিকন্ডাক্টর খাতের দক্ষ জনবল উন্নয়ন, ইকোসিস্টেম গঠন, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব, গবেষণা, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা, বাণিজ্যিকীকরণ এবং উদীয়মান ডিপ-টেক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স অ্যান্ড পার্টনারশিপের মতো প্রতিষ্ঠানের নেতারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তাদের অংশগ্রহণ বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার প্রতিফলন ঘটাবে। ‘বাংলাদেশের ডিপ-টেক ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যে সামিটের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে ক্রেইস্ট ফেলোস রিসার্চ সিম্পোজিয়াম, যেখানে দেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর গবেষকদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করা হবে।

সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে বিয়ার ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হবে এবং এক্সপোতে মোট ৩৫টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট 2026 অনুষ্ঠানের ১১টি প্ল্যানারি সেশনে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতের পথচলা, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নেতৃত্ব বিষয়ক সংলাপ, বাংলাদেশের ডিপ-টেক (Deep-Tech) ভবিষ্যৎ, গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি প্লেনারি, টেকনোলজি কনভারজেন্স ও ভবিষ্যতের শিল্প, গ্লোবাল লিডারশিপ ও ডায়াসপোরা (প্রবাসী) ফোরাম, উদ্যোক্তা এবং ডিপ-টেক স্টার্টআপ বিষয়গুলো নিয়ে প্যানেল আলোচনা ও বিশ্লেষণ অনুষ্ঠিত হবে।

​উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে সচিব বলেন, আপনারাই দেশের প্রতিটি সম্ভাবনার কথা জনগণের কাছে পৌঁছে দেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স সেক্টরের যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে, সেটিকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে আপনাদের সহযোগিতা অপরিহার্য।

সচিব আরও বলেন, আমরা আশা করছি আপনারা সাংবাদিকরা আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং BEAR Summit 2026-এর অনুষ্ঠানমালা ও কর্মসূচি সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন মাধ্যমে সম্প্রচার ও ব্যাপকভাবে প্রচার করে দেশবাসীর কাছে এ সিম্পোজিয়াম ও সামিটের সংবাদ তুলে ধরবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ, আইসিটি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব এনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানে (স্পেশাল রিমার্কস) বক্তব্য রাখবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। এছাড়া কি-নোট স্পিকার হিসেবে থাকবেন পারড্যু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সিলিকন রিভার ইনিশিয়েটিভের চিফ আর্কিটেক্ট প্রফেসর মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন এবং বিএসআইএর সভাপতি এম এ জাব্বার।