০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবার সহযোগিতা পেলে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ৮ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সবার আন্তরিক সহযোগিতা এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সরকার ‘কাঙিক্ষত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ ও সৈনিকেরা দেশটিকে যেভাবে দেখতে চায়, সরকার পর্যায়ক্রমে সেভাবেই দেশকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম। প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে কাটানো তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, এই এলাকার সঙ্গে তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ এবং সুখ-দুঃখের বিশাল স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ১৯৭৫-৭৭ সালের দিকের কথা স্মরণ করে তিনি সিএমএইচের পুরোনো রূপ, ছোট প্যাথলজি, স্টাফ সার্জন মেজর আনোয়ারের কাছে একা একা চিকিৎসা নিতে যাওয়া এবং বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে সিগন্যালের কাছের মসজিদে যাওয়ার স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন, একসময় জঙ্গল ও সরু রাস্তার এই এলাকাটি এখন অনেক সুন্দর রূপ পেয়েছে। ছোটবেলা থেকে এই ব্যারাকে ঘুরে বেড়ানো এবং সৈনিকদের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাসের কারণে এখানে এলে তাঁর মধ্যে আলাদা অনুভূতি কাজ করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের সুরক্ষায় সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রয়োজনে যারা ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে যেতে পারেননি, জাতি তাঁদের এই আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। এ সময় তিনি কয়েক মাস আগে দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন লাগার দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কথা উল্লেখ করে সেখান থেকে ১৮ জন সাংবাদিককে নিরাপদে উদ্ধার করায় সেনাসদস্যদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রয়োজনে সৈনিকেরা জীবন দেন এবং সরকারের দায়িত্ব হলো তাঁদের সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা।

সমাজের সব স্তরের মানুষ যেন তাদের সন্তানদের সুশিক্ষা, পরিবারের সুচিকিৎসা এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারে, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিশেষে, অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশবাসীকে নিরাপদ রাখার এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার তৌফিক চেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সবার সহযোগিতা পেলে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১২:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সবার আন্তরিক সহযোগিতা এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সরকার ‘কাঙিক্ষত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ ও সৈনিকেরা দেশটিকে যেভাবে দেখতে চায়, সরকার পর্যায়ক্রমে সেভাবেই দেশকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট আয়োজিত এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর অফিসার, সৈনিক এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম। প্রীতিভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে কাটানো তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, এই এলাকার সঙ্গে তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ এবং সুখ-দুঃখের বিশাল স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ১৯৭৫-৭৭ সালের দিকের কথা স্মরণ করে তিনি সিএমএইচের পুরোনো রূপ, ছোট প্যাথলজি, স্টাফ সার্জন মেজর আনোয়ারের কাছে একা একা চিকিৎসা নিতে যাওয়া এবং বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে সাইকেল চালিয়ে সিগন্যালের কাছের মসজিদে যাওয়ার স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন, একসময় জঙ্গল ও সরু রাস্তার এই এলাকাটি এখন অনেক সুন্দর রূপ পেয়েছে। ছোটবেলা থেকে এই ব্যারাকে ঘুরে বেড়ানো এবং সৈনিকদের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাসের কারণে এখানে এলে তাঁর মধ্যে আলাদা অনুভূতি কাজ করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের সুরক্ষায় সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রয়োজনে যারা ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে যেতে পারেননি, জাতি তাঁদের এই আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। এ সময় তিনি কয়েক মাস আগে দুটি পত্রিকা অফিসে আগুন লাগার দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কথা উল্লেখ করে সেখান থেকে ১৮ জন সাংবাদিককে নিরাপদে উদ্ধার করায় সেনাসদস্যদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রয়োজনে সৈনিকেরা জীবন দেন এবং সরকারের দায়িত্ব হলো তাঁদের সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা।

সমাজের সব স্তরের মানুষ যেন তাদের সন্তানদের সুশিক্ষা, পরিবারের সুচিকিৎসা এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারে, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিশেষে, অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশবাসীকে নিরাপদ রাখার এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার তৌফিক চেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।