১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিতর্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ২ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করার পর এবার তার নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের এক মাসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত আসায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ এর পেছনে ভিন্ন বার্তা খুঁজতে শুরু করেছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে সৌরভ গাঙ্গুলির ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সৌরভের নাম একাধিকবার আলোচনায় এসেছে।

বিজেপি একসময় তাকে রাজনীতিতে আনার চেষ্টা করেছিল বলে ব্যাপক আলোচনা ছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও বহু জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

পরে অবশ্য তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেননি। বরং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। শিল্প, ক্রীড়া ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সরকারি কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল অনুসরণ করে আসছিলেন বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সৌরভের নিরাপত্তা কমানো হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও বিরোধী মহলের একাংশ এটিকে ভিন্নভাবে দেখছে।

তাদের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে এমন সিদ্ধান্তের প্রতীকী গুরুত্বও রয়েছে।‌

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে সৌরভের নিরাপত্তা বাড়িয়ে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বাড়ি ও যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এখন সেই ব্যবস্থার বড় অংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তার নীরবতা জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এটি কি শুধুই প্রশাসনিক পুনর্মূল্যায়ন, নাকি এর মাধ্যমে নতুন সরকার একটি রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌরভ শুধু একজন সাবেক ক্রিকেটার নন, তিনি বাঙালির আবেগ ও গর্বের একটি বড় প্রতীক। ফলে তার নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ভবিষ্যতের দিকে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো সৌরভ গাঙ্গুলির নামও।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিতর্ক

সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিতর্ক

Update Time : ০৮:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করার পর এবার তার নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের এক মাসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত আসায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ এর পেছনে ভিন্ন বার্তা খুঁজতে শুরু করেছে।

সরকারি সূত্রের দাবি, নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে সৌরভ গাঙ্গুলির ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সৌরভের নাম একাধিকবার আলোচনায় এসেছে।

বিজেপি একসময় তাকে রাজনীতিতে আনার চেষ্টা করেছিল বলে ব্যাপক আলোচনা ছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও বহু জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

পরে অবশ্য তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেননি। বরং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। শিল্প, ক্রীড়া ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সরকারি কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল অনুসরণ করে আসছিলেন বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সৌরভের নিরাপত্তা কমানো হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও বিরোধী মহলের একাংশ এটিকে ভিন্নভাবে দেখছে।

তাদের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে এমন সিদ্ধান্তের প্রতীকী গুরুত্বও রয়েছে।‌

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে সৌরভের নিরাপত্তা বাড়িয়ে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বাড়ি ও যাতায়াতের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এখন সেই ব্যবস্থার বড় অংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তার নীরবতা জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। কলকাতার রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এটি কি শুধুই প্রশাসনিক পুনর্মূল্যায়ন, নাকি এর মাধ্যমে নতুন সরকার একটি রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌরভ শুধু একজন সাবেক ক্রিকেটার নন, তিনি বাঙালির আবেগ ও গর্বের একটি বড় প্রতীক। ফলে তার নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ভবিষ্যতের দিকে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো সৌরভ গাঙ্গুলির নামও।