০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যখাতে কোনো দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ১০৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক

যত সংকটই থাকুক, স্বাস্থ্যখাতে কোনো প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট রয়েছে। এগুলো ঠিক করতে সবার সহযোগিতা লাগবে। তবে আমরা কোনো দুর্নীতি মেনে নেব না। দুর্নীতি রোধে সবার সহযোগিতা চাই।’
আজ রোববার রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি এ এক্সপোর আয়োজন করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও যদি আমরা করব করব বলি, তাহলে কারা আসলে দেশের পতাকাকে এগিয়ে নেবে। দেশটা যদি শেষ হয়ে যায়, আমরা যদি ভেঙে পড়ি, মানুষের কাছে যদি মানসম্মত ওষুধ তুলে দিতে না পারি তাহলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১১ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ শিশু মারা গেছে। দুর্ভাগ্য আমাদের আমরা মন্ত্রী, সচিব হয়েও বিষয়টি জানতে পারিনি। মিডিয়ার কল্যাণে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের নূন্যতম প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে।’
এ সময় স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এটি শুধু প্রদর্শনী নয়, বাংলাদেশে ফার্মাসিখাতকে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের ফার্মাসিখাতকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। বর্তমান সময়ে এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছে উদ্যোক্তা।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ছিল। বাকি ৮০ শতাংশ ছিল আমদানি নির্ভর। বর্তমানে ওষুধের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে পৃথিবীর ১৫৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।’
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশের ওষুধ ১২২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পরিসর পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প গুণগত ও কার্যকারিতায় রক্ষা করছে। সেই সঙ্গে সুনাম ধরে রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে রাখবে।’
এ সময় বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুকতাদির বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করছে। ওষুধ উৎপাদনে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এপিআই শিল্পে আরও এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করছে। আমাদের পলিসিগতভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নীতিগত পরিবর্তন হলে এইখাত আরও এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে এগিয়ে যেতে চায়। চলমান যুদ্ধের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ওষুধ শিল্প। নানা পদক্ষেপের ফলে সমস্যা কিছুটা সমাধান হয়েছে। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের ওষুধের দাম কম রয়েছে। প্রতিবেশী যেকোনো দেশের তুলনায় আমরা কম মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করছি।’
‘এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে এবং এগিয়ে যাবে। এজন্য সরকারের দিক নির্দেশনা প্রয়োজন। সেটি পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ওষুধ শিল্প। এর মধ্যে ৩০টি কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নিতে তীক্ষ্ণ নজরদারি করা উচিত’ বলেও জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

স্বাস্থ্যখাতে কোনো দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Update Time : ০২:৪৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

যত সংকটই থাকুক, স্বাস্থ্যখাতে কোনো প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে নানা সংকট রয়েছে। এগুলো ঠিক করতে সবার সহযোগিতা লাগবে। তবে আমরা কোনো দুর্নীতি মেনে নেব না। দুর্নীতি রোধে সবার সহযোগিতা চাই।’
আজ রোববার রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি এ এক্সপোর আয়োজন করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও যদি আমরা করব করব বলি, তাহলে কারা আসলে দেশের পতাকাকে এগিয়ে নেবে। দেশটা যদি শেষ হয়ে যায়, আমরা যদি ভেঙে পড়ি, মানুষের কাছে যদি মানসম্মত ওষুধ তুলে দিতে না পারি তাহলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১১ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ শিশু মারা গেছে। দুর্ভাগ্য আমাদের আমরা মন্ত্রী, সচিব হয়েও বিষয়টি জানতে পারিনি। মিডিয়ার কল্যাণে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের নূন্যতম প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে।’
এ সময় স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এটি শুধু প্রদর্শনী নয়, বাংলাদেশে ফার্মাসিখাতকে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের ফার্মাসিখাতকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। বর্তমান সময়ে এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছে উদ্যোক্তা।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ছিল। বাকি ৮০ শতাংশ ছিল আমদানি নির্ভর। বর্তমানে ওষুধের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে পৃথিবীর ১৫৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।’
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশের ওষুধ ১২২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পরিসর পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প গুণগত ও কার্যকারিতায় রক্ষা করছে। সেই সঙ্গে সুনাম ধরে রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে রাখবে।’
এ সময় বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুকতাদির বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করছে। ওষুধ উৎপাদনে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এপিআই শিল্পে আরও এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করছে। আমাদের পলিসিগতভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নীতিগত পরিবর্তন হলে এইখাত আরও এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে এগিয়ে যেতে চায়। চলমান যুদ্ধের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ওষুধ শিল্প। নানা পদক্ষেপের ফলে সমস্যা কিছুটা সমাধান হয়েছে। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের ওষুধের দাম কম রয়েছে। প্রতিবেশী যেকোনো দেশের তুলনায় আমরা কম মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করছি।’
‘এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে এবং এগিয়ে যাবে। এজন্য সরকারের দিক নির্দেশনা প্রয়োজন। সেটি পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ওষুধ শিল্প। এর মধ্যে ৩০টি কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে। কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে নিতে তীক্ষ্ণ নজরদারি করা উচিত’ বলেও জানান তিনি।