বি এম রাকিব হাসান, খুলনা।।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বানের পানির মত আসছে ফেনসিডিল নেশদ্রব্য সিরাপ গাজাসহ মাদকদ্রব্য এবং জিরা গরম মশলা ও থ্রিপিচ শাড়ি। প্রায়ই বিজিবি সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হাতে এসব আটক হলেও থেমে নেই চোরাচালান সিন্ডিকেটের অপকর্ম। প্রতিদিনি কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য অবৈধ সীমান্ত পথে খুলনাঞ্চলে প্রবেশ করায় সরকার বিপুল পরিমান টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে আসন্ন ঈদুল আযাহকে টার্গেট করে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে চোরাচালনা প্রতিরোধে তৎপরতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির যশোর রিজিয়ন সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার স্থলসীমান্ত এবং সুন্দরবনের জলসীমান্ত মিলিয়ে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকাজুয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশাল সীমান্তে ২টি সেক্টর ও ৭টি ব্যাটালিয়নের অধীনে ১১৬টি বিওপি থেকে প্রতিদিন দিবারাত্রি ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ ও চামড়া পাচারে এবং ভারতীয় জিরা মশলা শাড়ি থ্রিপিচ ও মাদক চোরাচালান রোধসহ বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও চেকপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে চোরাচালানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
বিজিবি সুত্র জানায়, চলতি বছরের গত তিন মাসে যশোর রিজিয়ন চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৮৮ জন আসামিসহ প্রায় ৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করেছে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ দশমিক ২৮৯১৫ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫ দশমিক ৭৬ গ্রাম হীরা, ১০ দশমিক ৫ কেজি রৌপ্য, ৪২টি অস্ত্র ও ১৫২ রাউন্ড গুলি। চোরাচালান রোধে অভিযানে চলতি বছরের তিন মাসে ২ হাজার ৩২০ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২২ কেজি গাঁজা, ২৬ হাজার ২৭১টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪ হাজার ১০০ বোতলের বেশি ফেন্সিডিলসহ প্রায় ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সদরের শপিংমল বিপনী বিতানগুলোর গোডাউনে এখন শুল্কবিহীন অবৈধ ভারতীয় চোরাই পণ্যের মজুদ। ১০ জেলার বড় বড় বাজারগুলোতে ভারতীয় জিরা গরম মশলাতে সয়লাব। দেদারছে চোরাই পথে ঢুকছে অবৈধ ভারতীয় পণ্য। বিজিবি কোষ্টগার্ড অভিযানে কোটি কোটি টাকার মালামাল আটক হলেও থেমে নেই চোরাচালানী সিন্ডিকেটের তান্ডব।
জানা গেছে, কলকাতার বিভিন্ন মার্কেট চোরাচালানিদের শক্ত ঘাঁটি। ওই ঘাঁটি থেকে কয়েকটি সিন্ডিকেট এসব পণ্য পাচার নিয়ন্ত্রণ করে। সিন্ডিকেট আছে সীমান্তের এপারেও। তারা খুলনা সাতক্ষীরা যশোর সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে পণ্য সরবরাহ করে।
সূত্রমতে, বিগত দেড় বছর রাজনৈতিক কারণে ভারত থেকে বৈধ পথে আমদানি কমে যায়। যারা এলসি’র মাধ্যমে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকার থ্রি পিচ শাড়ি গরম মশলা জিরা আমদানী করতো তারা অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাব বোধ করে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। এছাড়া সরকার সমর্থিত ব্যবসায়ীদের অনেকেই এলাকা ছাড়া। কেউ কেউ মামলায় জড়িয়ে পলাতক ও জেলে। ফলে স্থল বন্দরগুলো দিয়ে গত দেড় বছরে স্মরণকালের সবচেয়ে কম আমদানি লক্ষনীয়। যে কারণে চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা বিকল্প পথে ঝুঁকে পয়েছে। তাই অবৈধ পথে শুল্ক না দিয়ে আসছে শত শত কোটি টাকার পণ্য। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে চলছে রমরমা চোরাই পণ্য বাণিজ্য। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিটি ছোট-বড় শপিংমল, মার্কেট, বিপণি বিতান এখন ভারতীয় পণ্যের দখলে। লাখ টাকা দামের শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রিপিস থেকে শুরু করে সব বয়সীদের শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, জুতা, সেন্ডেল প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বাহারি নামের এসব পোশাকের চাহিদা ও লাভ অনেক বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এসব পণ্য মজুদ ও বিক্রিতে বেশি আগ্রহী। রাজধানীর বাইরেও প্রতিটি জেলা শহরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় পণ্য। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসা এসব পণ্যের আগ্রাসনে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় শিল্প। সরকার হারাচ্ছে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর বিশেষ টহলদল কর্তৃক সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ৬৬টি শাড়ী, ০৯ কেজি চা-পাতা এবং ২০৯টি কসমেটিক্স সামগ্রী আটক করে। আটককৃত মালামালের মূল্য ১১ লক্ষ ২১ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ব্যাপারে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি জানান, দীর্ঘদিন যাবত মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামালসহ পাচার চক্র আটকের নিমিত্তে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানী মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের আভিযানিক কার্যক্রম সবসময়ই অব্যাহত থাকবে।
১১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে চোরাচালান
ঈদকে সামনে রেখে আসছে মাদকদ্রব্য, গরম মশলা, থ্রিপিচ ও শাড়ি
-
Reporter Name - Update Time : ০১:২০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- ৯৭ Time View
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ
























