০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানের পিক ফেলায় কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ১৩ Time View

সবুজদিন ডেস্ক।।

রংপুর মহানগরীতে একটি হোটেলের থালাবাসন রাখার স্থানে ‘পানের পিক’ ফেলায় শাওন নামে এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর খামার মোড়ের মেয়রের গলি এলাকার একটি ভাজাপোড়ার ফুটপাতের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন (২৪) ওই দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনু বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। ওইখানে পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে তখনই আমি ওই কামটা হুট করি আসি গেইছে। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়ার পর অভিযুক্ত মিজানুরকে আধাঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বাবা আমির হোসেন বলেন, ওর মানসিক সমস্যা আছে। একসময় তাকে তাবলিগে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে অনেক কবিরাজ ও মসজিদের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন। এখনও মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। আমি তাকে ধমক দিয়ে রাখি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, নগরীর খামার মোড় মেয়রের গলি এলাকায় ফুটপাতের ভাজাপাড়ার ওই দোকানের মালিক আমির হোসেন ও তার তিন ছেলে কাজ করে। সেখানে শাওন নামে এক যুবক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল সন্ধ্যার পর মালিকপক্ষের ছেলে মিজানুর রহমান মনুর সঙ্গে শাওনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মনু হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করে। এতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জেনেছি।

অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটি চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রায় আধা ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ মনে হয়নি।’প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, হোটেলে পরিষ্কার করা বাসনপত্র রাখার স্থানে কুলি বা ময়লা ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথায় আঘাত করেন।

তিনি আরো জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই: জামায়াত আমির

পানের পিক ফেলায় কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা

Update Time : ১২:৫৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সবুজদিন ডেস্ক।।

রংপুর মহানগরীতে একটি হোটেলের থালাবাসন রাখার স্থানে ‘পানের পিক’ ফেলায় শাওন নামে এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর খামার মোড়ের মেয়রের গলি এলাকার একটি ভাজাপোড়ার ফুটপাতের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন (২৪) ওই দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনু বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। ওইখানে পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে তখনই আমি ওই কামটা হুট করি আসি গেইছে। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়ার পর অভিযুক্ত মিজানুরকে আধাঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বাবা আমির হোসেন বলেন, ওর মানসিক সমস্যা আছে। একসময় তাকে তাবলিগে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে অনেক কবিরাজ ও মসজিদের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন। এখনও মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। আমি তাকে ধমক দিয়ে রাখি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, নগরীর খামার মোড় মেয়রের গলি এলাকায় ফুটপাতের ভাজাপাড়ার ওই দোকানের মালিক আমির হোসেন ও তার তিন ছেলে কাজ করে। সেখানে শাওন নামে এক যুবক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল সন্ধ্যার পর মালিকপক্ষের ছেলে মিজানুর রহমান মনুর সঙ্গে শাওনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মনু হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করে। এতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জেনেছি।

অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটি চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রায় আধা ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ মনে হয়নি।’প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, হোটেলে পরিষ্কার করা বাসনপত্র রাখার স্থানে কুলি বা ময়লা ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথায় আঘাত করেন।

তিনি আরো জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।