০৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুগল-মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে প্রীতি জিনতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৪ Time View

বিনোদন ডেস্ক

জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেনস বা এআইয়ের অপব্যবহার রুখতে এবং ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বজায় রাখতে এবার আইনি পদক্ষেপ নিলেন আইপিএলের দল পাঞ্জাব কিংসের মালিক বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি, মিম এবং তার নামে ভুয়া ‘এআই চ্যাটবট পার্সোনা’ তৈরি করার অভিযোগে গুগল ও মেটাসহ একাধিক টেক জায়ান্টের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মুম্বাই হাইকোর্টের সবুজ সংকেত পেলেন অভিনেত্রী।

হাইকোর্টের বিচারপতি অভয় আহুজা প্রীতি জিনতার করা বিশেষ আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং মামলাটি করার অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে টেক দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে প্রীতির আইনি লড়াইয়ের পথ এখন একেবারে পরিষ্কার।

এদিকে আদালতে অভিনেত্রীর পক্ষের আইনজীবী রোহন কদম বলেন, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রীতি জিনতার পরিচয় চুরি করা হয়েছে। তাই প্রীতি এ পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন।

কোনো ব্যক্তির নাম, কণ্ঠস্বর বা অবয়ব তার অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক বা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা আইনত অপরাধ উল্লেখ করে প্রীতি জিনতা বলেন, তার অজান্তেই তার ইমেজকে অপব্যবহার করা হচ্ছে।

১৯৫৭ সালের ভারতীয় কপিরাইট আইনের অধীনে প্রীতির নিজস্ব ডিজিটাল কনটেন্ট এবং তার সুনামের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। টেক প্ল্যাটফর্মগুলোতে এমন কিছু চ্যাটবট তৈরি করা হয়েছে, যা প্রীতি জিনতার নাম ও ব্যক্তিত্ব নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো অপরাধও করা হচ্ছে। এ ছাড়া আপত্তিকর ডিপফেক ভিডিও এবং বিকৃত মিমও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গুগল, মেটা, এক্স, জিফি, গোড্যাডির মতো যে ডজনখানেক সংস্থার বিরুদ্ধে প্রীতি মামলা করছেন, তাদের অনেকেরই অফিস মুম্বাইয়ের বাইরে বা বিদেশে। কিন্তু প্রীতি জিনতা ভারতীয় নাগরিক, যিনি মূলত মুম্বাইয়ে থাকেন এবং এখানেই কাজ করেন।

আইনজীবী আরও বলেন, যদিও অপরাধটি গোটা বিশ্বেই ঘটছে, তবু প্রীতির মানহানি ও সুনামের ক্ষতি মূলত মুম্বাই তথা বোম্বে হাইকোর্টের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।

শুধু প্রীতি জিনতাই প্রথম নন, বিগত কয়েক বছরে মুম্বাই হাইকোর্ট থেকে ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের সুরক্ষামূলক আইনি স্বস্তি পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান, শত্রুঘ্ন সিনহা, শিল্পা শেঠি, অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি, গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা।

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যুগে সেলিব্রিটিদের ডিজিটাল আইডেন্টিটি সুরক্ষিত রাখতে প্রীতির এ মামলাটি একটি বড় নজির হতে চলেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগল-মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে প্রীতি জিনতা

Update Time : ০১:০১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক

জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেনস বা এআইয়ের অপব্যবহার রুখতে এবং ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বজায় রাখতে এবার আইনি পদক্ষেপ নিলেন আইপিএলের দল পাঞ্জাব কিংসের মালিক বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও, বিকৃত ছবি, মিম এবং তার নামে ভুয়া ‘এআই চ্যাটবট পার্সোনা’ তৈরি করার অভিযোগে গুগল ও মেটাসহ একাধিক টেক জায়ান্টের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য মুম্বাই হাইকোর্টের সবুজ সংকেত পেলেন অভিনেত্রী।

হাইকোর্টের বিচারপতি অভয় আহুজা প্রীতি জিনতার করা বিশেষ আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং মামলাটি করার অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে টেক দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে প্রীতির আইনি লড়াইয়ের পথ এখন একেবারে পরিষ্কার।

এদিকে আদালতে অভিনেত্রীর পক্ষের আইনজীবী রোহন কদম বলেন, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রীতি জিনতার পরিচয় চুরি করা হয়েছে। তাই প্রীতি এ পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন।

কোনো ব্যক্তির নাম, কণ্ঠস্বর বা অবয়ব তার অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক বা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা আইনত অপরাধ উল্লেখ করে প্রীতি জিনতা বলেন, তার অজান্তেই তার ইমেজকে অপব্যবহার করা হচ্ছে।

১৯৫৭ সালের ভারতীয় কপিরাইট আইনের অধীনে প্রীতির নিজস্ব ডিজিটাল কনটেন্ট এবং তার সুনামের ওপর আঘাত হানা হয়েছে। টেক প্ল্যাটফর্মগুলোতে এমন কিছু চ্যাটবট তৈরি করা হয়েছে, যা প্রীতি জিনতার নাম ও ব্যক্তিত্ব নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো অপরাধও করা হচ্ছে। এ ছাড়া আপত্তিকর ডিপফেক ভিডিও এবং বিকৃত মিমও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গুগল, মেটা, এক্স, জিফি, গোড্যাডির মতো যে ডজনখানেক সংস্থার বিরুদ্ধে প্রীতি মামলা করছেন, তাদের অনেকেরই অফিস মুম্বাইয়ের বাইরে বা বিদেশে। কিন্তু প্রীতি জিনতা ভারতীয় নাগরিক, যিনি মূলত মুম্বাইয়ে থাকেন এবং এখানেই কাজ করেন।

আইনজীবী আরও বলেন, যদিও অপরাধটি গোটা বিশ্বেই ঘটছে, তবু প্রীতির মানহানি ও সুনামের ক্ষতি মূলত মুম্বাই তথা বোম্বে হাইকোর্টের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।

শুধু প্রীতি জিনতাই প্রথম নন, বিগত কয়েক বছরে মুম্বাই হাইকোর্ট থেকে ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের সুরক্ষামূলক আইনি স্বস্তি পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান, শত্রুঘ্ন সিনহা, শিল্পা শেঠি, অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি, গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা।

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যুগে সেলিব্রিটিদের ডিজিটাল আইডেন্টিটি সুরক্ষিত রাখতে প্রীতির এ মামলাটি একটি বড় নজির হতে চলেছে।