০৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমের ঘাটতিতে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৪ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সুস্থ শরীর ও মানসিক প্রশান্তির জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে তা শুধু ক্লান্তি বা মনোযোগের সমস্যাই তৈরি করে না, বরং কম বয়সীদের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের মধ্যে কেন কিছু ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনুসন্ধান চলছে। খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, পরিবেশ দূষণ ও জীবনযাত্রার নানা দিক নিয়ে গবেষণা হলেও, এবার আলোচনায় এসেছে ঘুমের বিষয়টিও।

কী বলছে গবেষণা?

আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্লিনিক্যাল অনকোলজির জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা, অনিয়মিত ঘুম বা নিম্নমানের ঘুম শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

সাধারণত ঘুমের সময় শরীরে টিস্যু পুনর্গঠন, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এসব প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গবেষকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের প্রবণতা বাড়ে। আর এমন প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কয়েক ধরনের ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আগের অনেক গবেষণাতেই উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঘুমের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অস্বাভাবিক কোষগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

কেন বাড়ছে অনিদ্রা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটানো, ব্যস্ত কর্মজীবন, মানসিক চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে বর্তমানে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।

নারীরা কেন বেশি ঝুঁকিতে?

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা, পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘুমের মান প্রভাবিত হয়। পাশাপাশি নারীদের মধ্যে অনিদ্রা ও অন্যান্য ঘুমজনিত সমস্যার হারও পুরুষদের তুলনায় বেশি।

তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, অনিদ্রা সরাসরি ক্যানসারের কারণ এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ঘুম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা এই গবেষণা আবারও সামনে এনেছে।

তাদের মতে, স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

যারা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের বিষয়টিকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা কর্মক্ষমতা, মনোযোগ, মানসিক অবস্থা এবং ভবিষ্যতের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুমের ঘাটতিতে বাড়তে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা

Update Time : ০২:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সুস্থ শরীর ও মানসিক প্রশান্তির জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে তা শুধু ক্লান্তি বা মনোযোগের সমস্যাই তৈরি করে না, বরং কম বয়সীদের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের মধ্যে কেন কিছু ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনুসন্ধান চলছে। খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, পরিবেশ দূষণ ও জীবনযাত্রার নানা দিক নিয়ে গবেষণা হলেও, এবার আলোচনায় এসেছে ঘুমের বিষয়টিও।

কী বলছে গবেষণা?

আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্লিনিক্যাল অনকোলজির জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা, অনিয়মিত ঘুম বা নিম্নমানের ঘুম শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

সাধারণত ঘুমের সময় শরীরে টিস্যু পুনর্গঠন, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এসব প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গবেষকদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের প্রবণতা বাড়ে। আর এমন প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কয়েক ধরনের ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আগের অনেক গবেষণাতেই উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঘুমের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অস্বাভাবিক কোষগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও ধ্বংস করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

কেন বাড়ছে অনিদ্রা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটানো, ব্যস্ত কর্মজীবন, মানসিক চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে বর্তমানে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।

নারীরা কেন বেশি ঝুঁকিতে?

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা, পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘুমের মান প্রভাবিত হয়। পাশাপাশি নারীদের মধ্যে অনিদ্রা ও অন্যান্য ঘুমজনিত সমস্যার হারও পুরুষদের তুলনায় বেশি।

তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, অনিদ্রা সরাসরি ক্যানসারের কারণ এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ঘুম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা এই গবেষণা আবারও সামনে এনেছে।

তাদের মতে, স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

যারা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের বিষয়টিকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা কর্মক্ষমতা, মনোযোগ, মানসিক অবস্থা এবং ভবিষ্যতের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।