০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তাল আজাদ কাশ্মীর, নিহত ২৪

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মিরের আজাদ কাশ্মির অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এই বছরের সবচেয়ে মারাত্মক অস্থিরতার মধ্যে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ডাকা হরতালে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএএসি সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ইসলামাবাদের জন্য বড় ধরনের সংবেদনশীল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইসলামাবাদ প্রায়ই ভারতশাসিত কাশ্মিরে দিল্লির ভিন্নমত দমনের সমালোচনা করে থাকে, কিন্তু এখন নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডেই ব্যাপক রোষের মুখে পড়েছে।

১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মিরের দুটি অঞ্চল—আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান পাকিস্তানের দখলে আসে। উভয় অঞ্চলই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত এবং প্রাদেশিক আইনসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।

আসন্ন ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য এই ১২টি আসন সংরক্ষণের প্রতিবাদে জেএএসি ৯ জুন ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটের আগে থেকেই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ৬ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

রাওয়ালকোটের উপকণ্ঠে বর্তমানে হাজার হাজার জেএএসি সমর্থক অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং কাশ্মিরের অধিকাংশ এলাকায় গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিয়েছে।

আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফারাবাদের আপার আড্ডা বাণিজ্যিক এলাকায় দিনমজুররা কাজের অপেক্ষায় অলসভাবে বসে আছেন। প্রত্যন্ত গ্রামের ২৭ বছর বয়সী দিনমজুর ইখলাক আহমেদ বলেন, ‘৯ জুন থেকে আমি এক টাকাও আয় করিনি।’

সাধারণত ব্যস্ত এই এলাকা এখন প্রায় নিস্তব্ধ। ওষুধের দোকান ও কিছু মুদি দোকান সীমিত সময়ের জন্য খুলছে, ফল-সবজি বিক্রেতারা সতর্কতার সঙ্গে ফিরে এসেছেন, কিন্তু অধিকাংশ ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা স্থগিত থাকায় এটিএম ও ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ। সরকারি আদেশে পেট্রোল স্টেশনগুলোও বন্ধ রয়েছে।

মোটরসাইকেল ট্যাক্সি চালক আসিফ নাজের বলেন, ‘যাদের সামর্থ্য আছে তারা হয়তো এটা সামলে নিতে পারবে, কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ শ্রমিকদের জন্য এটা আত্মহত্যা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তাল আজাদ কাশ্মীর, নিহত ২৪

Update Time : ০৪:৩০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মিরের আজাদ কাশ্মির অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এই বছরের সবচেয়ে মারাত্মক অস্থিরতার মধ্যে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ডাকা হরতালে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। আজ শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএএসি সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত ইসলামাবাদের জন্য বড় ধরনের সংবেদনশীল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইসলামাবাদ প্রায়ই ভারতশাসিত কাশ্মিরে দিল্লির ভিন্নমত দমনের সমালোচনা করে থাকে, কিন্তু এখন নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডেই ব্যাপক রোষের মুখে পড়েছে।

১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মিরের দুটি অঞ্চল—আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান পাকিস্তানের দখলে আসে। উভয় অঞ্চলই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত এবং প্রাদেশিক আইনসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।

আসন্ন ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য এই ১২টি আসন সংরক্ষণের প্রতিবাদে জেএএসি ৯ জুন ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটের আগে থেকেই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ৬ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, ৯৭ জন আহত এবং ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

রাওয়ালকোটের উপকণ্ঠে বর্তমানে হাজার হাজার জেএএসি সমর্থক অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং কাশ্মিরের অধিকাংশ এলাকায় গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিয়েছে।

আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফারাবাদের আপার আড্ডা বাণিজ্যিক এলাকায় দিনমজুররা কাজের অপেক্ষায় অলসভাবে বসে আছেন। প্রত্যন্ত গ্রামের ২৭ বছর বয়সী দিনমজুর ইখলাক আহমেদ বলেন, ‘৯ জুন থেকে আমি এক টাকাও আয় করিনি।’

সাধারণত ব্যস্ত এই এলাকা এখন প্রায় নিস্তব্ধ। ওষুধের দোকান ও কিছু মুদি দোকান সীমিত সময়ের জন্য খুলছে, ফল-সবজি বিক্রেতারা সতর্কতার সঙ্গে ফিরে এসেছেন, কিন্তু অধিকাংশ ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা স্থগিত থাকায় এটিএম ও ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ। সরকারি আদেশে পেট্রোল স্টেশনগুলোও বন্ধ রয়েছে।

মোটরসাইকেল ট্যাক্সি চালক আসিফ নাজের বলেন, ‘যাদের সামর্থ্য আছে তারা হয়তো এটা সামলে নিতে পারবে, কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ শ্রমিকদের জন্য এটা আত্মহত্যা।’