সবুজদিন রিপোর্ট।।
শনিবার (২০ জুন) বিকালে বিশ্বনাথের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা।
অভিযুক্তরা হলেন বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে আছকির আলী (৫৫) ও আজবর আলী (৪৬)। এর মধ্যে আছকির আলী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং আজবর আলী দেশে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আজিম খান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা দেখে তিনি সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় চাকরির আশায় চার কিস্তিতে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তবে প্রতিশ্রুত ভিসার পরিবর্তে তাকে তিন মাস মেয়াদি একটি ভিসার কপি দেওয়া হয়। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ঢাকায় নিয়ে তার টাকা, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আটকে রেখে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আজিম খানের দাবি, পরে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশের পর আরও ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে তারা ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়ের করেন। সমাধান না হওয়ায় গত ১৪ জুন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে একটি মামলা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অনেককে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে কাজ ও বেতন না দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আবার কাউকে কাউকে ঢাকায় আটকে রেখে অর্থ আদায় করা হয়েছে। তাদের দাবি, এভাবে অসহায় মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আছকির আলী। সৌদি আরব থেকে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। আজিম খান কখনো মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় যাননি দাবি করে তিনি বলেন, নির্যাতনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এছাড়া কাওছার নামে এক ভুক্তভোগী বর্তমানে সৌদিতে কাজ করছেন এবং নিয়মিত বাড়িতে টাকা পাঠাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান জানান, ২১ জন ভুক্তভোগী ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগের পর বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে ডেকে তিনবার নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
Reporter Name 



















