০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর এ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, টানা ১৮ ঘণ্টার আলোচনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

গালিবাফ বলেন, এই চুক্তির আওতায় শুধু অবরুদ্ধ অর্থই অবমুক্ত করা হচ্ছে না, পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোরাসায়নিক খাতের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের তেল ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্য বিক্রির বিশেষ অনুমতি পাবে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পুনরায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তেহরান সম্মত হওয়ায় এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান ও কাতার।

দুই দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
তবে অবমুক্ত অর্থের ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, এই অর্থের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যয় করা উচিত।

কিন্তু এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবমুক্ত হওয়া অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিজস্ব বিষয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কিনতে ইরানকে কোনোভাবেই বাধ্য করা যাবে না। দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় তেহরান নিজেই এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে এখনো অনেক জটিলতা রয়ে গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ১২:২২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর এ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, টানা ১৮ ঘণ্টার আলোচনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

গালিবাফ বলেন, এই চুক্তির আওতায় শুধু অবরুদ্ধ অর্থই অবমুক্ত করা হচ্ছে না, পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোরাসায়নিক খাতের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের তেল ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্য বিক্রির বিশেষ অনুমতি পাবে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পুনরায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তেহরান সম্মত হওয়ায় এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান ও কাতার।

দুই দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার পর উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
তবে অবমুক্ত অর্থের ব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, এই অর্থের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যয় করা উচিত।

কিন্তু এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবমুক্ত হওয়া অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিজস্ব বিষয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কিনতে ইরানকে কোনোভাবেই বাধ্য করা যাবে না। দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় তেহরান নিজেই এই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা নির্ধারণ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে এখনো অনেক জটিলতা রয়ে গেছে।