০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলা : বেনজীরের বিরুদ্ধে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৯ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহদের বিরুদ্ধে মোট আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে গত ২০ মে মামলাটিতে আরো চারজন সাক্ষ্য দেন।

এ নিয়ে মামলাটিতে মোট আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে চারজনের সাক্ষ্য শেষ হয়। মামলাটিতে মোট সাক্ষী ২৮ জন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক আইজি বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে আজ পর্যন্ত মামলাটিতে আট জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলেও আশা করছি।

আজকের সাক্ষীরা হলেন–নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্টার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুদকের উপপরিচালক সিরাজুল হক।

এর আগে গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বেনজীরের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগ পত্র দেয় দুদক। ওই অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।

বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও বেনজীরের বিরুদ্ধে আরো পাঁচটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে দুই মামলায় বেনজীরকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের পৃথক তিন মামলায় তাকে সহযোগী আসামি করা হয়। বর্তমানে এসব মামলা তদন্তধীন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক। তিন মামলায় বেনজীরকে সহযোগী আসামি করা হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলা : বেনজীরের বিরুদ্ধে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

Update Time : ০১:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহদের বিরুদ্ধে মোট আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে গত ২০ মে মামলাটিতে আরো চারজন সাক্ষ্য দেন।

এ নিয়ে মামলাটিতে মোট আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে চারজনের সাক্ষ্য শেষ হয়। মামলাটিতে মোট সাক্ষী ২৮ জন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক আইজি বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে আজ পর্যন্ত মামলাটিতে আট জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলেও আশা করছি।

আজকের সাক্ষীরা হলেন–নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্টার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুদকের উপপরিচালক সিরাজুল হক।

এর আগে গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বেনজীরের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগ পত্র দেয় দুদক। ওই অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।

বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও বেনজীরের বিরুদ্ধে আরো পাঁচটি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে দুই মামলায় বেনজীরকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের পৃথক তিন মামলায় তাকে সহযোগী আসামি করা হয়। বর্তমানে এসব মামলা তদন্তধীন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরির ঘটনায় বেনজীর আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক। তিন মামলায় বেনজীরকে সহযোগী আসামি করা হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।