১২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরওয়ের বিদায়ের পর বড় হালান্ড বললেন, ‘রেফারি বেশ ভালো খেলেছে’

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৯ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। এই হারের পর রেফারিংয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড।

মায়ামিতে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহাম, যার মধ্যে একটি ছিল অতিরিক্ত সময়ের জয়সূচক গোল। প্রথমার্ধে আন্দ্রিয়াস শেলডারুপের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। এই হারের মধ্য দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে যায় নরওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা।

শেষ বাঁশি বাজার পর ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেলিংহামের প্রশংসা করেন। এর জবাবে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন আলফ-ইঙ্গে হালান্ড। তিনি লেখেন, ‘দারুণ খেলেছে বেলিংহাম আর রেফারিও।’

এই মন্তব্য দ্রুতই সবার নজর কাড়ে। ম্যাচ শেষে নরওয়ের বিতর্কিত বিদায়ই পরিণত হয় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়ে।

ম্যাচে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল নরওয়ে শিবির। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতাসূচক গোল করে ইংল্যান্ড। এই গোলের আগে একটি গোল-কিক মাথার ওপরের ক্যামেরার তার স্পর্শ করেছিল বলে মনে হয়েছিল। এতে বলের গতিপথ বদলে যায় বলে মনে করেছিল নরওয়ে, তাই খেলা থামানো উচিত ছিল বলে প্রতিবাদ জানায় তারা। তবে ফিফা পরে জানায়, প্রযুক্তির তথ্য অনুযায়ী কোনো স্পর্শের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, কানেক্টেড বলের সেন্সরে বাতাসে থাকা অবস্থায় বলের ‘হার্টবিটে’ কোনো অস্বাভাবিক তারতম্য দেখা যায়নি। তাই ওপরের তারে বল স্পর্শ করে গতিপথ বদলানোর কোনো প্রমাণ নেই।

৫৫ মিনিটে আরেকটি ঘটনায় হতাশ হয় নরওয়ে। কর্নার থেকে গোল করে লিড ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেছিলেন তরবিয়র্ন হেগেম। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। রেফারিরা সিদ্ধান্ত দেন, কর্নার নেওয়ার আগে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছিলেন আর্লিং হালান্ড।

অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে ম্যাচের ফয়সালা করে দেন বেলিংহাম। মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ইয়র্ন নিল্যান্ডের হাত ফসকে যায়। এই সুযোগে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কাছ থেকে গোল করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।

৩৬ মিনিটে হ্যারি কেইনের বল হারানোর সুযোগে শক্তিশালী বাঁ পায়ের শটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন শেলডারুপ। বিরতির ঠিক আগে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড, অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বল থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন বেলিংহাম।

অতিরিক্ত সময়ের মাঝপথে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়েন আর্লিং হালান্ড। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৪ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার অসাধারণ রেকর্ডও ভেঙে যায়।

এই জয়ে নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। গত তিন আসরের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। টমাস টুখেলের দল এবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার।

উল্লেখ্য, আলফ-ইঙ্গে হালান্ড নিজেও ছিলেন একজন সফল ফুটবলার। নটিংহাম ফরেস্ট, লিডস ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন তিনি। নরওয়ের হয়ে ৩৪টি ম্যাচ খেলা এই সাবেক ডিফেন্ডার ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা

নরওয়ের বিদায়ের পর বড় হালান্ড বললেন, ‘রেফারি বেশ ভালো খেলেছে’

Update Time : ১২:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। এই হারের পর রেফারিংয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড।

মায়ামিতে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহাম, যার মধ্যে একটি ছিল অতিরিক্ত সময়ের জয়সূচক গোল। প্রথমার্ধে আন্দ্রিয়াস শেলডারুপের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফেরে ইংল্যান্ড। এই হারের মধ্য দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে যায় নরওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা।

শেষ বাঁশি বাজার পর ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেলিংহামের প্রশংসা করেন। এর জবাবে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন আলফ-ইঙ্গে হালান্ড। তিনি লেখেন, ‘দারুণ খেলেছে বেলিংহাম আর রেফারিও।’

এই মন্তব্য দ্রুতই সবার নজর কাড়ে। ম্যাচ শেষে নরওয়ের বিতর্কিত বিদায়ই পরিণত হয় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়ে।

ম্যাচে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল নরওয়ে শিবির। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতাসূচক গোল করে ইংল্যান্ড। এই গোলের আগে একটি গোল-কিক মাথার ওপরের ক্যামেরার তার স্পর্শ করেছিল বলে মনে হয়েছিল। এতে বলের গতিপথ বদলে যায় বলে মনে করেছিল নরওয়ে, তাই খেলা থামানো উচিত ছিল বলে প্রতিবাদ জানায় তারা। তবে ফিফা পরে জানায়, প্রযুক্তির তথ্য অনুযায়ী কোনো স্পর্শের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, কানেক্টেড বলের সেন্সরে বাতাসে থাকা অবস্থায় বলের ‘হার্টবিটে’ কোনো অস্বাভাবিক তারতম্য দেখা যায়নি। তাই ওপরের তারে বল স্পর্শ করে গতিপথ বদলানোর কোনো প্রমাণ নেই।

৫৫ মিনিটে আরেকটি ঘটনায় হতাশ হয় নরওয়ে। কর্নার থেকে গোল করে লিড ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেছিলেন তরবিয়র্ন হেগেম। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। রেফারিরা সিদ্ধান্ত দেন, কর্নার নেওয়ার আগে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছিলেন আর্লিং হালান্ড।

অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে ম্যাচের ফয়সালা করে দেন বেলিংহাম। মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ইয়র্ন নিল্যান্ডের হাত ফসকে যায়। এই সুযোগে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কাছ থেকে গোল করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।

৩৬ মিনিটে হ্যারি কেইনের বল হারানোর সুযোগে শক্তিশালী বাঁ পায়ের শটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন শেলডারুপ। বিরতির ঠিক আগে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড, অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বল থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন বেলিংহাম।

অতিরিক্ত সময়ের মাঝপথে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়েন আর্লিং হালান্ড। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৪ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার অসাধারণ রেকর্ডও ভেঙে যায়।

এই জয়ে নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। গত তিন আসরের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। টমাস টুখেলের দল এবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার।

উল্লেখ্য, আলফ-ইঙ্গে হালান্ড নিজেও ছিলেন একজন সফল ফুটবলার। নটিংহাম ফরেস্ট, লিডস ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন তিনি। নরওয়ের হয়ে ৩৪টি ম্যাচ খেলা এই সাবেক ডিফেন্ডার ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন।