স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অবসর নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র দুই শব্দের
একটি বার্তা দিয়ে সমর্থকদের দৃষ্টি কাড়লেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। ম্যাচের শেষ দিকে মাইকেল মরিনোর করা গোল এবং পর্তুগালের একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় স্বপ্নভঙ্গ হয় দলটির। ম্যাচ শেষে চোখে জল নিয়েই মাঠ ছাড়তে দেখা যায় রোনালদোকে।
স্পেন ম্যাচের আগে রোনালদো নিজেই জানিয়েছিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেননি তিনি। বরং ইনস্টাগ্রামে সতীর্থদের একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘Portugal Sempre’, যার বাংলা অর্থ ‘চিরকাল পর্তুগাল’। সংক্ষিপ্ত এই বার্তাকেই অনেকেই দেশের প্রতি তার অটুট ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রোনালদো বলেন, বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হলেও জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে, যেখানে পর্তুগাল চতুর্থ হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে শেষ ষোলো, ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব, ২০১৮ সালে আবারও শেষ ষোলো এবং ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল দলটি। তবে ওই আসরে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়ে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শেষ হলো ২৭ ম্যাচে ১১ গোল করে। ক্লাব ফুটবলে তার অসাধারণ সাফল্যের তুলনায় এই পরিসংখ্যান কিছুটা ম্লান হলেও, এবারের আসরে পাঁচ ম্যাচে তিন গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
তবে শেষ ম্যাচে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়েন রোনালদো। বিশ্বকাপে মোট ১৭টি শট নিয়েও সতীর্থদের জন্য একটি সুযোগও তৈরি করতে পারেননি, যা এই পরিসংখ্যানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য আরও কয়েকটি অনন্য রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন রোনালদো। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি ৪১ বছর বা তার বেশি বয়সে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে খেলা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হন। একই ম্যাচে তিনি বিশ্বকাপ নকআউট ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার রেকর্ডও গড়েন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ নকআউট গোল।
গ্রুপ পর্বে কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্র দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল পর্তুগাল। পরে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন রোনালদো। সেই ম্যাচেই তিনি ইউসেবিওর ৯ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলারও হন তিনি। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পর্তুগাল।
Reporter Name 
























