১০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ভেজাল মেশানো হচ্ছে খেজুরের গুঁড়ে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৩৭ Time View

পুঠিয়া (রাজশাহী) থেকে জাহাঙ্গীর আলম ৷
রাজশাহীতে শীতের শুরুতেই বাজারে দেখা যাচ্ছে খেজুরের গুড়। খেজুরের গুড় দিয়ে নানা রকমের সুস্বাদু লোভনীয় খাদ্য সামগ্রী তৈরি হয়। এইজন্য খেজুরের গুড বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শীতের মৌসুমে বাড়িতে বাড়িতে নানা ধরনের পিঠা এবং অন্যান্য খাদ্য তৈরিতে প্রচুর খেজুরের গুড় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাছাড়া শীতের সকালে খেজুরের মিষ্টি রস খাওয়া বাঙ্গালীদের বৈশিষ্ট্য। অথচ এই খেজুরের গুড় সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং অস্বাস্থ্যকর উপাদান মিশ্রিত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। খেজুরের গাছে এক ধরনের মাটির পাত্র ব্যবহার হয়।। এই পাত্র থেকে রস ঢেলে নেয়ার পর বন জঙ্গলে পুকুর পাড়ে রাস্তার পাশের খেজুরের গাছ তলাতে পাত্রটি পড়ে থাকে। পাত্রে রসের আকর্ষণে মশা মাছি কীটপতঙ্গ পোকামাকড় ইঁদুর সহ বন্যপ্রাণী নির্জনে বসে চাটাচাটি করে। এমন কি গাছেও পাখিতে ওই পাত্রে রস খায়। প্লাস্টিকের বড় বড় ড্রাম জারি কেনে রস ভর্তি করে রাখা হয় যা অত্যন্ত অপরিষ্কার এবং অস্বাস্থ্যকর। প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে না ফেলে একইভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহার হচ্ছে। গুড় তৈরিতে যে কয়ডা বা কড়াই ব্যবহার করা হয় উন্মুক্ত অবস্থায় সেখানেই পড়ে থাকে ফলে বিভিন্ন পশু প্রাণী সহ পোকামাকড় চাটাচাটি করে। শুধু তাই নয় ‘গুড় তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন দ্রব্য। গুড়ের রং বা কালার সুন্দর করতে ব্যবহার হচ্ছে চুন ফিট কিরি হাইড্রোজ পাউডার রং সহ অন্যান্য উপাদান যা সব সময় স্বাস্থ্য ঝুকি রয়েছে। বাজারে চিনির দাম কমে যাওয়ায় চিনি গুড়ে ব্যবহার হচ্ছে। চিনি মেশানো হলে খেজুরের গুড়ের পরিমাণ বেড়ে যায় ফলে অনেক লাভের আশায় ব্যবহার করা হচ্ছে চিনি। শুধু তাই নয় বাজারে পুরনো আমদানি করা পচা ও গন্ধযুক্ত আখের গুড় অত্যন্ত কম দামে ক্রয় করে খেজুরের গুড়ে মেশানো হচ্ছে। এই ‘গুড় ব্যবহার করার ফলে খেজুরের গুড় দ্রুত জমাট বাঁধে তখন তাকে চাকি আকারে বাজারে বিক্রি করে থাকে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা দুর্গাপুর উপজেলা এই ভেজাল গুড়ের ব্যবহার বেশি। কয়েকজন গুড় প্রস্তুতকারীদের সাথে কথা হল তারা শুধু সামান্য চি’নি মেশানোর কথা স্বীকার করছেন জরুরীভাবে এই সমস্ত ভেজাল মেশানো বন্ধ না হলে জনগণ বিভিন্ন রকমের রোগ সহ বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে থাকবে। অত্র এলাকার জনসাধারণ মনে করছেন যে খেজুরের গুড় প্রস্তুতকারীররা ইচ্ছা করলেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গুড় প্রস্তুত করতে পারবে ৷।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে ভেজাল মেশানো হচ্ছে খেজুরের গুঁড়ে

Update Time : ০৮:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

পুঠিয়া (রাজশাহী) থেকে জাহাঙ্গীর আলম ৷
রাজশাহীতে শীতের শুরুতেই বাজারে দেখা যাচ্ছে খেজুরের গুড়। খেজুরের গুড় দিয়ে নানা রকমের সুস্বাদু লোভনীয় খাদ্য সামগ্রী তৈরি হয়। এইজন্য খেজুরের গুড বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শীতের মৌসুমে বাড়িতে বাড়িতে নানা ধরনের পিঠা এবং অন্যান্য খাদ্য তৈরিতে প্রচুর খেজুরের গুড় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাছাড়া শীতের সকালে খেজুরের মিষ্টি রস খাওয়া বাঙ্গালীদের বৈশিষ্ট্য। অথচ এই খেজুরের গুড় সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং অস্বাস্থ্যকর উপাদান মিশ্রিত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। খেজুরের গাছে এক ধরনের মাটির পাত্র ব্যবহার হয়।। এই পাত্র থেকে রস ঢেলে নেয়ার পর বন জঙ্গলে পুকুর পাড়ে রাস্তার পাশের খেজুরের গাছ তলাতে পাত্রটি পড়ে থাকে। পাত্রে রসের আকর্ষণে মশা মাছি কীটপতঙ্গ পোকামাকড় ইঁদুর সহ বন্যপ্রাণী নির্জনে বসে চাটাচাটি করে। এমন কি গাছেও পাখিতে ওই পাত্রে রস খায়। প্লাস্টিকের বড় বড় ড্রাম জারি কেনে রস ভর্তি করে রাখা হয় যা অত্যন্ত অপরিষ্কার এবং অস্বাস্থ্যকর। প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে না ফেলে একইভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহার হচ্ছে। গুড় তৈরিতে যে কয়ডা বা কড়াই ব্যবহার করা হয় উন্মুক্ত অবস্থায় সেখানেই পড়ে থাকে ফলে বিভিন্ন পশু প্রাণী সহ পোকামাকড় চাটাচাটি করে। শুধু তাই নয় ‘গুড় তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন দ্রব্য। গুড়ের রং বা কালার সুন্দর করতে ব্যবহার হচ্ছে চুন ফিট কিরি হাইড্রোজ পাউডার রং সহ অন্যান্য উপাদান যা সব সময় স্বাস্থ্য ঝুকি রয়েছে। বাজারে চিনির দাম কমে যাওয়ায় চিনি গুড়ে ব্যবহার হচ্ছে। চিনি মেশানো হলে খেজুরের গুড়ের পরিমাণ বেড়ে যায় ফলে অনেক লাভের আশায় ব্যবহার করা হচ্ছে চিনি। শুধু তাই নয় বাজারে পুরনো আমদানি করা পচা ও গন্ধযুক্ত আখের গুড় অত্যন্ত কম দামে ক্রয় করে খেজুরের গুড়ে মেশানো হচ্ছে। এই ‘গুড় ব্যবহার করার ফলে খেজুরের গুড় দ্রুত জমাট বাঁধে তখন তাকে চাকি আকারে বাজারে বিক্রি করে থাকে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা দুর্গাপুর উপজেলা এই ভেজাল গুড়ের ব্যবহার বেশি। কয়েকজন গুড় প্রস্তুতকারীদের সাথে কথা হল তারা শুধু সামান্য চি’নি মেশানোর কথা স্বীকার করছেন জরুরীভাবে এই সমস্ত ভেজাল মেশানো বন্ধ না হলে জনগণ বিভিন্ন রকমের রোগ সহ বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে থাকবে। অত্র এলাকার জনসাধারণ মনে করছেন যে খেজুরের গুড় প্রস্তুতকারীররা ইচ্ছা করলেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গুড় প্রস্তুত করতে পারবে ৷।