০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘আনপ্রেডিকটেবল’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ‘আনপ্রেডিকটেবল’। কখন কোন রোগের জটিলতা বেড়ে যায়, কিংবা কখন শারীরিক অবস্থার উন্নতি অথবা অবনতি হয়- সেটি কেউ বলতে পারছেন না। বিদেশে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি তাঁর। তবে রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রফেসর সাহাবউদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যে আন্তরিকতার সঙ্গে বিরতিহীনভাবে তাঁকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন- সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংককের মতো দেশের কোনো হাসপাতালে টানা ২৪ ঘণ্টার এমন আন্তরিক সেবা পাওয়াটা দুর্লভ। মেডিকেল বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা এ তথ্য জানান। জানা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই হয়নি। তবে তাঁর শারীরিক জটিলতা কখন বেড়ে যায়, কিংবা কখন কমে যায়- কিছুই বলা যাচ্ছে না। এটি অনেকটাই ‘আনপ্রেডিকটেবল’ বলে মনে করছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। তবে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁদের সাধ্যের ভিতরে সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সর্বোচ্চ সতর্কতায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্ট প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ফুসফুসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজনে এই সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান হাসপাতালে সশরীরে উপস্থিত থেকে সমগ্র চিকিৎসার সমন্বয় করছেন।
মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, দেশি-বিদেশি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড প্রতিদিন বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষায় তাঁর স্বাস্থ্যে বেশ কিছু জটিলতা ধরা পড়ে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শুরুতে তাঁকে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও বাইপ্যাপ মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাঁর সার্বিক শারীরিক অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৭ নভেম্বর তাঁর একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস ধরা পরে, যেগুলোর নিবিড় চিকিৎসা এখনো চলছে। শরীরে গুরুতর ইনফেকশনের (ব্যাকটেরিয়া অ্যান্ড ফাংগাল ইনফেকশন) কারণে তাঁকে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। এখনো নিয়মিত ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে তাঁকে। বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য মেডিকেল বোর্ড ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও সবাইকে দোয়া করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশ্নফাঁসের প্রচারণাটি স্রেফ গুজব: শিক্ষামন্ত্রী

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘আনপ্রেডিকটেবল’

Update Time : ০৩:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ‘আনপ্রেডিকটেবল’। কখন কোন রোগের জটিলতা বেড়ে যায়, কিংবা কখন শারীরিক অবস্থার উন্নতি অথবা অবনতি হয়- সেটি কেউ বলতে পারছেন না। বিদেশে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি তাঁর। তবে রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রফেসর সাহাবউদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যে আন্তরিকতার সঙ্গে বিরতিহীনভাবে তাঁকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন- সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংককের মতো দেশের কোনো হাসপাতালে টানা ২৪ ঘণ্টার এমন আন্তরিক সেবা পাওয়াটা দুর্লভ। মেডিকেল বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা এ তথ্য জানান। জানা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই হয়নি। তবে তাঁর শারীরিক জটিলতা কখন বেড়ে যায়, কিংবা কখন কমে যায়- কিছুই বলা যাচ্ছে না। এটি অনেকটাই ‘আনপ্রেডিকটেবল’ বলে মনে করছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। তবে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁদের সাধ্যের ভিতরে সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদানের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সর্বোচ্চ সতর্কতায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্ট প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ফুসফুসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজনে এই সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান হাসপাতালে সশরীরে উপস্থিত থেকে সমগ্র চিকিৎসার সমন্বয় করছেন।
মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, দেশি-বিদেশি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড প্রতিদিন বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষায় তাঁর স্বাস্থ্যে বেশ কিছু জটিলতা ধরা পড়ে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় শুরুতে তাঁকে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও বাইপ্যাপ মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে ইলেক্টিভ ভেন্টিলেটর সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তাঁর সার্বিক শারীরিক অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৭ নভেম্বর তাঁর একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস ধরা পরে, যেগুলোর নিবিড় চিকিৎসা এখনো চলছে। শরীরে গুরুতর ইনফেকশনের (ব্যাকটেরিয়া অ্যান্ড ফাংগাল ইনফেকশন) কারণে তাঁকে উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। এখনো নিয়মিত ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে তাঁকে। বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য মেডিকেল বোর্ড ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও সবাইকে দোয়া করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।