১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় বিটিসিএলের ক্যাবল লুটপাট, জড়িতদের আড়ালের চেষ্টা!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯২ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।
খুলনার পাইকগাছায় সড়ক সংস্কারের আড়ালে লুট হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর মাটির নিচে থাকা সংযোগ ক্যাবল। ৮ কিলোমিটার রাস্তা থেকে ক্যাবল অপসারণ করা হলেও তার নেই কোনো হিসাব। একদিকে এর কোন হিসাব নাই আর অন্যদিকে নেই কোন তার জবাবদিহিতা। অপসারিত কেবলের কোনো সুস্পষ্ট অফিসিয়াল হিসাব দেখাতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান ও লাইনম্যান। অপরাধ ও লুটপাট আড়াল করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানাযায়, খুলনার পাইকগাছা-আগঢ়ঘাটা থেকে পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলাকালে মাটি খুঁড়ে উঠে আসে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল। যার আনুমানিক দাম প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। এতো টাকার সরকারি সম্পদ অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নেই লিখিত অনুমোদন, নেই সংরক্ষণ ও আর্থিক রেকর্ড -এ বাস্তবতা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দায়িত্ব স্বীকার ও অজ্ঞতার দ্বৈত বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।এখন নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্ণাঙ্গ অডিটের মাধ্যমেই পরিষ্কার হতে পারে- সড়ক খননের আড়ালে সত্যি কি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টেকনিশিয়ান মোখলেছুর রহমান ও লাইনম্যান আলেক গাজীকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সড়ক সংস্কার কাজের সময় আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল অপসারণের ঘটনার স্বীকার করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান মোকলেছুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট রুটে মোট কত কিলোমিটার কেবল ছিল কিংবা ঠিক কতটুকু অপসারণ করা হয়েছে-এ বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। বিষয়টি উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে দাবি করলেও লিখিতভাবে অবহিত করার কোন নথি দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন,”সড়ক থেকে যে তার পাওয়া গেছে সেই তার স্টোর রুমে আছে”।
তবে অপসারিত কেবলের স্টোর রেজিস্টার, স্টক এন্টি, গ্রহণ- বিবরণী বা ডিসপোজাল সংক্রান্ত কোনো লিখিত নথি উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। ব্যবহারযোগ্য কেবল পুনঃব্যবহার এবং অকেজো কেবল স্ক্র্যাপ হিসেবে বিবেচনার কথা জানালেও স্ক্র্যাপ চিহ্নিতকরণ বা নিলাম সংক্রান্ত কোনো লিখিত আদেশ নেই বলে স্বীকার করেন। মালামাল সংরক্ষণের দায়িত্বে তিনি ও আরেক কর্মচারী লাইনম্যান আলেক গাজী ছিলেন উল্লেখ করে মোখলেছুর রহমান বলেন, ” অফিস থেকে কিছু হলে দায়ভার আমাদের” তবে একই সঙ্গে মন্তব্য করেন রাস্তা থেকে কেউ তার নিয়ে গেলে আমরা তো সব সময় দেখতে পাই না।
এদিকে অফিসের আরেক কর্মচারী লাইনম্যান আলেক গাজী সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছে উনার সঙ্গে কথা বলেন। আমি কিছুই জানি না। তবে সাধারণের অভিযোগ এর সাথে বিটিসিএল এর অন্য কর্মকর্তারাও জড়িত থাকতে পারে। সঠিক তদন্ত করা হলে এর আসল রহস্য বের হবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (খুলনা) মো. বেঞ্জুর রহমান বলেন, “যদি ভালো মানের কেবল উত্তোলন করা হয়, তাহলে আমাদের নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নথিভুক্ত রাখতে হবে। কতগুলো কেবল উঠেছে তা নোট করে রাখতে হবে এবং ডকুমেন্টরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে এবং এর সাথে আসলে ঘটনাটি কি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় বিটিসিএলের ক্যাবল লুটপাট, জড়িতদের আড়ালের চেষ্টা!

Update Time : ০১:৩৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।
খুলনার পাইকগাছায় সড়ক সংস্কারের আড়ালে লুট হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর মাটির নিচে থাকা সংযোগ ক্যাবল। ৮ কিলোমিটার রাস্তা থেকে ক্যাবল অপসারণ করা হলেও তার নেই কোনো হিসাব। একদিকে এর কোন হিসাব নাই আর অন্যদিকে নেই কোন তার জবাবদিহিতা। অপসারিত কেবলের কোনো সুস্পষ্ট অফিসিয়াল হিসাব দেখাতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান ও লাইনম্যান। অপরাধ ও লুটপাট আড়াল করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানাযায়, খুলনার পাইকগাছা-আগঢ়ঘাটা থেকে পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলাকালে মাটি খুঁড়ে উঠে আসে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল। যার আনুমানিক দাম প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। এতো টাকার সরকারি সম্পদ অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নেই লিখিত অনুমোদন, নেই সংরক্ষণ ও আর্থিক রেকর্ড -এ বাস্তবতা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দায়িত্ব স্বীকার ও অজ্ঞতার দ্বৈত বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।এখন নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্ণাঙ্গ অডিটের মাধ্যমেই পরিষ্কার হতে পারে- সড়ক খননের আড়ালে সত্যি কি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টেকনিশিয়ান মোখলেছুর রহমান ও লাইনম্যান আলেক গাজীকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সড়ক সংস্কার কাজের সময় আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল অপসারণের ঘটনার স্বীকার করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান মোকলেছুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট রুটে মোট কত কিলোমিটার কেবল ছিল কিংবা ঠিক কতটুকু অপসারণ করা হয়েছে-এ বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। বিষয়টি উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে দাবি করলেও লিখিতভাবে অবহিত করার কোন নথি দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন,”সড়ক থেকে যে তার পাওয়া গেছে সেই তার স্টোর রুমে আছে”।
তবে অপসারিত কেবলের স্টোর রেজিস্টার, স্টক এন্টি, গ্রহণ- বিবরণী বা ডিসপোজাল সংক্রান্ত কোনো লিখিত নথি উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। ব্যবহারযোগ্য কেবল পুনঃব্যবহার এবং অকেজো কেবল স্ক্র্যাপ হিসেবে বিবেচনার কথা জানালেও স্ক্র্যাপ চিহ্নিতকরণ বা নিলাম সংক্রান্ত কোনো লিখিত আদেশ নেই বলে স্বীকার করেন। মালামাল সংরক্ষণের দায়িত্বে তিনি ও আরেক কর্মচারী লাইনম্যান আলেক গাজী ছিলেন উল্লেখ করে মোখলেছুর রহমান বলেন, ” অফিস থেকে কিছু হলে দায়ভার আমাদের” তবে একই সঙ্গে মন্তব্য করেন রাস্তা থেকে কেউ তার নিয়ে গেলে আমরা তো সব সময় দেখতে পাই না।
এদিকে অফিসের আরেক কর্মচারী লাইনম্যান আলেক গাজী সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছে উনার সঙ্গে কথা বলেন। আমি কিছুই জানি না। তবে সাধারণের অভিযোগ এর সাথে বিটিসিএল এর অন্য কর্মকর্তারাও জড়িত থাকতে পারে। সঠিক তদন্ত করা হলে এর আসল রহস্য বের হবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (খুলনা) মো. বেঞ্জুর রহমান বলেন, “যদি ভালো মানের কেবল উত্তোলন করা হয়, তাহলে আমাদের নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নথিভুক্ত রাখতে হবে। কতগুলো কেবল উঠেছে তা নোট করে রাখতে হবে এবং ডকুমেন্টরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে এবং এর সাথে আসলে ঘটনাটি কি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।