০৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাদরাসা শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা

আলোচিত সেই শিক্ষক গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

নেত্রকোনার মদনে আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত সেই মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ভোর ৪ টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাবের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাছহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই গ্রামের একটি মহিলা মাদরাসার পরিচালক।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার ভোরে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‍্যাব। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

শিশুটির মা বলেন, গত বছরের ২ নভেম্বর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর হুজুর আমার মেয়েকে ডেকে মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদ ঝাড়ু দিতে বলেন। এ সময় মাদরাসার অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যায়। ঝাড়ু শেষে হুজুরের কক্ষে ডেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। কিছুদিন আগে আমি বাড়িতে এসে দেখি আমার মেয়ের পেটটা অনেক বড়।

পরে আমি তারে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় হুজুরে এই কাজ করেছে। এরপর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হই সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি মামলা করছি। এ ঘটনার বিচার চাই।

মামলার পর শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় নানা সমালোচনা। এদিকে মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকলেও গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদরাসা শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা

আলোচিত সেই শিক্ষক গ্রেপ্তার

Update Time : ১২:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

নেত্রকোনার মদনে আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত সেই মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ভোর ৪ টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‍্যাবের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাছহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই গ্রামের একটি মহিলা মাদরাসার পরিচালক।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার ভোরে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র‍্যাব। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

শিশুটির মা বলেন, গত বছরের ২ নভেম্বর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর হুজুর আমার মেয়েকে ডেকে মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদ ঝাড়ু দিতে বলেন। এ সময় মাদরাসার অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যায়। ঝাড়ু শেষে হুজুরের কক্ষে ডেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। কিছুদিন আগে আমি বাড়িতে এসে দেখি আমার মেয়ের পেটটা অনেক বড়।

পরে আমি তারে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় হুজুরে এই কাজ করেছে। এরপর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হই সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি মামলা করছি। এ ঘটনার বিচার চাই।

মামলার পর শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় নানা সমালোচনা। এদিকে মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকলেও গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর।