খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার ডুমুরিয়ায় পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ হয়ে বিথি বেগম নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল এলাকার পেট্রলপাম্প কর্মচারী জনি গাজীর স্ত্রী।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, জনি-বিথি দম্পত্তি সাংসারিকভাবে অনেক সমস্যায় ছিলেন। ডুমুরিয়ার খর্ণীয়া এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করা জনির (৩০) অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় তাদের সংসারে বিরোধ লেগেই থাকত। পারিবারিক বিরোধের জেরে গতকাল মঙ্গলবার বিথির (২৬) ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তার স্বামী। একপর্যায়ে ঘর থেকে পেট্রোল এনে বিথির শরীরে ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন তিনি। এ সময় বিথির চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ঘটনার পর থেকে জনি পলাতক রয়েছেন।
খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বিথিকে দ্রুত ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয় তার পরিবারের সদস্যরা। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেলে চিকিৎসকের পরামর্শে সেখান থেকে বিথিকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় তার পরিবার। ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
রুদাঘরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন মোল্যা জানান, গৃহবধূ বিথি বেগমের শরীরের সামনে ও হাতের অনেকাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি মারা গেছেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে অনেক কিছু শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছে, স্বামী জনি নিজেই তার স্ত্রীকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আবার কেউ বলছে, ঘর জ্বালানোর সময় স্ত্রীর অসাবধানতার কারণে পেট্রোলে লেগে আগুন ধরে গেছে। এখানে কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা বোঝা মুশকিল।
ডুমুরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আছের আলী জানান, নিহত গৃহবধুর মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনেক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় এসে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
Reporter Name 
























