০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গৃহবধূ নিহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ৯৯ Time View

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও পাগলীর ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধুর নাম চায়না খাতুন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।সহকারি পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সাথে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের সাথে বিরোধ চলছিল। রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে গত রাত থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
সোমবার সকালে ইসলাম প্রামানিক গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। এমন সময় রাজা গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপরে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। গুলিতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলাম প্রামানিক বলেন, আমার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। এজন্য রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি খবর পেয়ে তখনি সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনে তাদেরকে এ বিষয়ে মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমাকেও মারধর করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় মুরুব্বিদের সাথে বসে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে। সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঠক অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে রাজার নেতৃত্বে এসে অতর্কিত আমাদের গ্রামের লোকজনের উপরে গুলি ও হামলা চালায়। এতে গুলিতে স্পটে মারা গেছে চায়না খাতুন। আরো ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি স্পটেও ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসছি। এখানে আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কিনা বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছে কিনা আমি জানিনা। আমি শুনেছি চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছে। আপনারা ভালো করে তদন্ত করে দেখেন আমি সেখানে ছিলাম কিনা আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কিনা। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সহকারি পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কি বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গৃহবধূ নিহত

Update Time : ০৭:০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও পাগলীর ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধুর নাম চায়না খাতুন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।সহকারি পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সাথে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের সাথে বিরোধ চলছিল। রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়। এ নিয়ে গত রাত থেকেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
সোমবার সকালে ইসলাম প্রামানিক গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। এমন সময় রাজা গ্রুপের লোকজন লাঠি সোটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপরে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে। গুলিতে গৃহবধূ চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলাম প্রামানিক বলেন, আমার ভাগ্নে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। এজন্য রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজা গ্রুপের লোকজন। আমি খবর পেয়ে তখনি সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনে তাদেরকে এ বিষয়ে মারামারি না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা উল্টো আমাকেও মারধর করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় মুরুব্বিদের সাথে বসে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে। সকালে আমরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাজার গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঠক অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে রাজার নেতৃত্বে এসে অতর্কিত আমাদের গ্রামের লোকজনের উপরে গুলি ও হামলা চালায়। এতে গুলিতে স্পটে মারা গেছে চায়না খাতুন। আরো ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি স্পটেও ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসছি। এখানে আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কিনা বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছে কিনা আমি জানিনা। আমি শুনেছি চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছে। আপনারা ভালো করে তদন্ত করে দেখেন আমি সেখানে ছিলাম কিনা আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কিনা। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সহকারি পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কি বিষয় নিয়ে হামলার ঘটনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।