০৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস আপনার শরীরে যে উপকার এনে দেবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ৫ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রতিদিন মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস আপনার শরীরে জাদুকরী পরিবর্তন আনতে পারে! এটি যেমন আপনার হার্ট ও ফুসফুসকে সুস্থ রাখে, ঠিক তেমনি মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুম গভীর করতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটলে রক্ত চলাচল বাড়ে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমে। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ একাধিক সংস্থার গবেষণা বলছে— সুস্থ থাকতে হলে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস ও ওবেসিটি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এই ছোট্ট টোটকাই দারুণ ফল দেয়।

রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ওষুধের মতোই কাজ করে হাঁটাহাঁটি। আজকাল কম বয়সিরাও ভুগছে হার্টের সমস্যায়। কৈশোরেই শরীরে বাসা বাঁধছে ফ্যাটি লিভার। আর এসব রোগের পেছনে দায়ী লাইফস্টাইল।

চিকিৎসকদের দাবি, অনিয়ন্ত্রিত ও অলস জীবনযাপনই বাড়িয়ে তুলছে এ ধরনের ক্রনিক লাইফস্টাইল ডিজিজ। তবে এসব সমস্যা কমিয়ে ফেলতে পারেন শুধু হেঁটে। কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন হাঁটার কয়েকটি উপকারিতা শেয়ার করেছেন সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে।

তিনি লিখেছেন— আপনি যত বেশি হাঁটবেন, তত বেশি সুফল পাবেন। কম হাঁটলেও ক্ষতি নেই। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম আহার ও কায়িক পরিশ্রম সব কিছুই নির্ভর করছে।

আর হাঁটলে গোটা দেহে রক্ত সঞ্চালন সচল থাকে। শরীরের প্রতিটা অঙ্গে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায়। এর পাশাপাশি এ অভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শর্করার মাত্রা বজায় রাখে। এ ছাড়া ওজন কমাতেও সাহায্য করে হাঁটার অভ্যাস। এর জেরে যেমন বিপাকীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে, ঠিক তেমনই হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে যায়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে হাঁটলেই হার্ট সচল থাকে।

এ ছাড়া মস্তিষ্ক সচল রাখতেও হাঁটা জরুরি। হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে নিউরোট্রান্সমিটারগুলো ঠিকমতো নিঃসৃত হয়। এর জেরে মস্তিষ্কও ঠিকমতো কাজ করতে পারে। এককথায়— হাঁটা মস্তিষ্কের জন্য শরীরচর্চার কাজ করে। স্মৃতিশক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং এর জেরে বিষণ্নতা ও অবসাদ এড়ানো যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস আপনার শরীরে যে উপকার এনে দেবে

Update Time : ০২:৩৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রতিদিন মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস আপনার শরীরে জাদুকরী পরিবর্তন আনতে পারে! এটি যেমন আপনার হার্ট ও ফুসফুসকে সুস্থ রাখে, ঠিক তেমনি মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুম গভীর করতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটলে রক্ত চলাচল বাড়ে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমে। এতে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ একাধিক সংস্থার গবেষণা বলছে— সুস্থ থাকতে হলে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে। বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস ও ওবেসিটি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এই ছোট্ট টোটকাই দারুণ ফল দেয়।

রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ওষুধের মতোই কাজ করে হাঁটাহাঁটি। আজকাল কম বয়সিরাও ভুগছে হার্টের সমস্যায়। কৈশোরেই শরীরে বাসা বাঁধছে ফ্যাটি লিভার। আর এসব রোগের পেছনে দায়ী লাইফস্টাইল।

চিকিৎসকদের দাবি, অনিয়ন্ত্রিত ও অলস জীবনযাপনই বাড়িয়ে তুলছে এ ধরনের ক্রনিক লাইফস্টাইল ডিজিজ। তবে এসব সমস্যা কমিয়ে ফেলতে পারেন শুধু হেঁটে। কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন হাঁটার কয়েকটি উপকারিতা শেয়ার করেছেন সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে।

তিনি লিখেছেন— আপনি যত বেশি হাঁটবেন, তত বেশি সুফল পাবেন। কম হাঁটলেও ক্ষতি নেই। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এর সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম আহার ও কায়িক পরিশ্রম সব কিছুই নির্ভর করছে।

আর হাঁটলে গোটা দেহে রক্ত সঞ্চালন সচল থাকে। শরীরের প্রতিটা অঙ্গে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায়। এর পাশাপাশি এ অভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শর্করার মাত্রা বজায় রাখে। এ ছাড়া ওজন কমাতেও সাহায্য করে হাঁটার অভ্যাস। এর জেরে যেমন বিপাকীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে, ঠিক তেমনই হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে যায়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে হাঁটলেই হার্ট সচল থাকে।

এ ছাড়া মস্তিষ্ক সচল রাখতেও হাঁটা জরুরি। হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে নিউরোট্রান্সমিটারগুলো ঠিকমতো নিঃসৃত হয়। এর জেরে মস্তিষ্কও ঠিকমতো কাজ করতে পারে। এককথায়— হাঁটা মস্তিষ্কের জন্য শরীরচর্চার কাজ করে। স্মৃতিশক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং এর জেরে বিষণ্নতা ও অবসাদ এড়ানো যায়।