০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০,০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ১০ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও কারখানাগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকার একটি স্বল্প সুদের পুনরুজ্জীবন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনিবার্য কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ঋণ পরিশোধে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো এই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে কার্যকরী মূলধন ঋণ নিতে পারবে। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঋণের সুদের হার প্রায় ১৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে, যার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি যুক্ত থাকবে। নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে এই কারখানা পুনরুজ্জীবন তহবিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে। মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তহবিল গঠনের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ কারখানার হালনাগাদ তালিকা, বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে আলোচনা করছে কীভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত এবং পুনরায় চালু হওয়ার সক্ষমতা থাকা কারখানাগুলোকে চিহ্নিত করা যায়। আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরি করে তহবিল গঠন করা হবে।

এ লক্ষ্যে ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকারদের কাছ থেকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণ পরিশোধে ইচ্ছুক কারখানা শনাক্তের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে, পাশাপাশি নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যাংকাররা এই ধরনের ঋণের ঝুঁকি কমাতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি চেয়েছেন, যাতে ঋণ পরবর্তী সময়ে খেলাপি হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি নতুন ঋণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জামানত এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবও এসেছে, যাতে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও কারখানার জন্য সহজ ঋণ পুনঃতফসিল নীতি চালু করেছিল। নতুন এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতারই একটি বৃহৎ সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের বন্ধ শিল্পখাত পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষের চিন্তাধারা ও মনোজগৎ নির্মাণে শক্তিশালী মাধ্যম চলচ্চিত্র : তথ্যমন্ত্রী

বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০,০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

Update Time : ১২:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও কারখানাগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকার একটি স্বল্প সুদের পুনরুজ্জীবন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনিবার্য কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ঋণ পরিশোধে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো এই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে কার্যকরী মূলধন ঋণ নিতে পারবে। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ঋণের সুদের হার প্রায় ১৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে, যার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি যুক্ত থাকবে। নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে এই কারখানা পুনরুজ্জীবন তহবিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে। মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তহবিল গঠনের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ কারখানার হালনাগাদ তালিকা, বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানান, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে আলোচনা করছে কীভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত এবং পুনরায় চালু হওয়ার সক্ষমতা থাকা কারখানাগুলোকে চিহ্নিত করা যায়। আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরি করে তহবিল গঠন করা হবে।

এ লক্ষ্যে ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকারদের কাছ থেকে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণ পরিশোধে ইচ্ছুক কারখানা শনাক্তের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে, পাশাপাশি নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যাংকাররা এই ধরনের ঋণের ঝুঁকি কমাতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি চেয়েছেন, যাতে ঋণ পরবর্তী সময়ে খেলাপি হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি নতুন ঋণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জামানত এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবও এসেছে, যাতে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও কারখানার জন্য সহজ ঋণ পুনঃতফসিল নীতি চালু করেছিল। নতুন এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতারই একটি বৃহৎ সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের বন্ধ শিল্পখাত পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।