০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলে যাচ্ছে ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতির রূপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রবণতা যত স্পষ্ট হচ্ছে, ততই ভারতের মানচিত্র থেকে বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের দাপুটে আধিপত্য ফিকে হয়ে আসছে। রবিবারের গণনায় দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কেরালার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শাসকরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের গত দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের কেন্দ্রে থাকা ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের দিকেই এখন সবার নজর। তবে সামগ্রিক ফলে গেরুয়া শিবিরের এই জয় ভারতের পূর্ব প্রান্তে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করল।

অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতেও পরিবর্তনের হাওয়া প্রবল। তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিনের দ্রাবিড় রাজনীতির চেনা ছক কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনকে পেছনে ফেলে অভিনেতা বিজয় ও তাঁর নতুন দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে) একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। বিগত কয়েক দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দ্বিমুখী লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে পর্দার ‘থালাপতি’ এখন চেন্নাইয়ের কুর্সিতে বসার পথে।

একইভাবে কেরালায় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার বদলের প্রথা বজায় রেখে পিনারাই বিজয়নের বাম সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। এই জয় কংগ্রেসের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও বিরোধী জোটের অভ্যন্তরে মমতা বা স্ট্যালিনের মতো হেভিওয়েট মুখ্যমন্ত্রীদের অনুপস্থিতি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের পথকে আরও মসৃণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উত্তর-পূর্বের অসমে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হাত ধরে বিজেপি তাদের আধিপত্য ধরে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়ের রেকর্ড গড়তে চলেছে। তবে সবথেকে বড় আলোচনা শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমকে স্ট্যালিন এবং পিনারাই বিজয়নের মতো জাতীয় রাজনীতির প্রভাবশালী মুখদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

এর আগে দিল্লি এবং বিহারের নির্বাচনেও বিরোধী পক্ষ ধাক্কা খেয়েছিল, আর এখন ২০২৬-এর এই ফল ভারতের বিরোধী রাজনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। আঞ্চলিক দলগুলোর এই বিপর্যয়ের ফলে জাতীয় স্তরে বিজেপির পাল্লা যেমন ভারী হলো, তেমনই অ-বিজেপি রাজনীতির মুখ কে হবেন, তা নিয়ে নতুন করে সমীকরণ তৈরির সময় এসেছে। সব মিলিয়ে ২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচন ভারতের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বদলে যাচ্ছে ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতির রূপ

Update Time : ০৪:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রবণতা যত স্পষ্ট হচ্ছে, ততই ভারতের মানচিত্র থেকে বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের দাপুটে আধিপত্য ফিকে হয়ে আসছে। রবিবারের গণনায় দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কেরালার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শাসকরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের গত দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের কেন্দ্রে থাকা ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের দিকেই এখন সবার নজর। তবে সামগ্রিক ফলে গেরুয়া শিবিরের এই জয় ভারতের পূর্ব প্রান্তে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করল।

অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতেও পরিবর্তনের হাওয়া প্রবল। তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিনের দ্রাবিড় রাজনীতির চেনা ছক কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনকে পেছনে ফেলে অভিনেতা বিজয় ও তাঁর নতুন দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে) একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। বিগত কয়েক দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দ্বিমুখী লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে পর্দার ‘থালাপতি’ এখন চেন্নাইয়ের কুর্সিতে বসার পথে।

একইভাবে কেরালায় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার বদলের প্রথা বজায় রেখে পিনারাই বিজয়নের বাম সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। এই জয় কংগ্রেসের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও বিরোধী জোটের অভ্যন্তরে মমতা বা স্ট্যালিনের মতো হেভিওয়েট মুখ্যমন্ত্রীদের অনুপস্থিতি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের পথকে আরও মসৃণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উত্তর-পূর্বের অসমে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হাত ধরে বিজেপি তাদের আধিপত্য ধরে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়ের রেকর্ড গড়তে চলেছে। তবে সবথেকে বড় আলোচনা শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমকে স্ট্যালিন এবং পিনারাই বিজয়নের মতো জাতীয় রাজনীতির প্রভাবশালী মুখদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

এর আগে দিল্লি এবং বিহারের নির্বাচনেও বিরোধী পক্ষ ধাক্কা খেয়েছিল, আর এখন ২০২৬-এর এই ফল ভারতের বিরোধী রাজনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। আঞ্চলিক দলগুলোর এই বিপর্যয়ের ফলে জাতীয় স্তরে বিজেপির পাল্লা যেমন ভারী হলো, তেমনই অ-বিজেপি রাজনীতির মুখ কে হবেন, তা নিয়ে নতুন করে সমীকরণ তৈরির সময় এসেছে। সব মিলিয়ে ২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচন ভারতের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।