১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগ্রহী সুইজারল্যান্ড

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৬ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি।

রবিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও নিবিড় সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশি যেসব কর্মী বিদেশে অবস্থান করে আবার দেশে ফিরে আসেন, তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বৈদেশিক অভিবাসন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি নিজ দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এর চেয়েও বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এই সংকটের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইপি)’ উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে। তবে ওইপি-কে আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টাল উন্নয়ন এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের কর্মমুখী ও কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক সুখ্যাতির কথা স্মরণ করে তিনি এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, হসপিটালিটি ও নির্মাণ খাতের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডের বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সুইজারল্যান্ডে অবস্থানকারী বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষা ও বিভিন্ন সেক্টরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে এই ডায়াসপোরা কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডের মাইগ্রেশন ও প্রটেকশনের আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা গ্রেমিঙ্গার এবং আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সহায়তায় চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: পানিসম্পদমন্ত্রী

বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগ্রহী সুইজারল্যান্ড

Update Time : ০৭:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি।

রবিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও নিবিড় সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশি যেসব কর্মী বিদেশে অবস্থান করে আবার দেশে ফিরে আসেন, তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বৈদেশিক অভিবাসন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি নিজ দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এর চেয়েও বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এই সংকটের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইপি)’ উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে। তবে ওইপি-কে আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টাল উন্নয়ন এবং একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের কর্মমুখী ও কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক সুখ্যাতির কথা স্মরণ করে তিনি এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, হসপিটালিটি ও নির্মাণ খাতের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডের বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সুইজারল্যান্ডে অবস্থানকারী বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষা ও বিভিন্ন সেক্টরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে এই ডায়াসপোরা কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডের মাইগ্রেশন ও প্রটেকশনের আঞ্চলিক উপদেষ্টা লিসা গ্রেমিঙ্গার এবং আঞ্চলিক প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক নাজিয়া হায়দারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।