০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটে স্বর্ণের ভরিতে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের প্রস্তাব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জুয়েলারি খাতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জুয়েলারি সেবার বিপরীতে প্রচলিত ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য নির্দিষ্ট হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, জুয়েলারি শিল্পের কর কাঠামো আরও সহজ, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে শতাংশভিত্তিক ভ্যাটের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের কর হিসাব সহজ হবে এবং ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে জুয়েলারি সেবার ওপর বর্তমানে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট বাতিল করে প্রতি ভরি হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হবে।

এর মাধ্যমে খাতটির কর ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আসবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।

বিশ্লেষকদের মতে, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হলে স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ে কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কর পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

তবে বাজারে এর প্রভাব এবং ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ৫৫তম এই বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটে স্বর্ণের ভরিতে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের প্রস্তাব

Update Time : ০৫:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

জুয়েলারি খাতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জুয়েলারি সেবার বিপরীতে প্রচলিত ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরি স্বর্ণের জন্য নির্দিষ্ট হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, জুয়েলারি শিল্পের কর কাঠামো আরও সহজ, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে শতাংশভিত্তিক ভ্যাটের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের কর হিসাব সহজ হবে এবং ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে জুয়েলারি সেবার ওপর বর্তমানে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট বাতিল করে প্রতি ভরি হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হবে।

এর মাধ্যমে খাতটির কর ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আসবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।

বিশ্লেষকদের মতে, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হলে স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ে কর নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কর পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

তবে বাজারে এর প্রভাব এবং ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ৫৫তম এই বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।