০৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা ইপিজেডে শ্রমিকের হাত বিচ্ছিন্ন, উন্নত চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

মোংলা ইপিজেডের একটি কারখানায় কর্মরত অবস্থায় মেশিনে হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া শ্রমিক মো. গোলাম রসুলের উন্নত চিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে বাগেরহাটের মোংলার উত্তর চাঁদপাই বাজারের মোড়ে চাঁদপাই গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী শ্রমিকের স্বজনদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোংলা ইপিজেডের ‘গুয়াংজু হুয়া ফাং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিডি’ কোম্পানির শ্রমিক মো. গোলাম রসুল কারখানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় অসাবধানতাবশত মেশিনের ভেতরে পড়ে যান। এতে কনুই থেকে তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে যথাযথ ও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।

বক্তাদের দাবি, কারখানায় শ্রমিক স্বল্পতার কারণে গোলাম রসুলকে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের এই অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার কারণেই আজ একটি তাজা প্রাণ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
আজ সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ। সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ রুস্তম আলী ও আবু হানিফ শেখ, নাগরিক নেতা নাজমুল হক, আসাদুজ্জামান টিটো, ছাত্রনেতা শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, আরাফাত হোসেন দুর্জয় এবং পরিবেশকর্মী মেহেদী হাসান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গোলাম রসুলকে সারা জীবন পঙ্গুত্ব বরণ করে বেঁচে থাকতে হবে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি চিরতরে কর্মহীন হয়ে পড়ায় পুরো পরিবারটি এখন চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অবিলম্বে গোলাম রসুলের সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ইপিজেড ও সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মোংলা ইপিজেডে শ্রমিকের হাত বিচ্ছিন্ন, উন্নত চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ১২:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

মোংলা ইপিজেডের একটি কারখানায় কর্মরত অবস্থায় মেশিনে হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া শ্রমিক মো. গোলাম রসুলের উন্নত চিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে বাগেরহাটের মোংলার উত্তর চাঁদপাই বাজারের মোড়ে চাঁদপাই গ্রামবাসী ও ভুক্তভোগী শ্রমিকের স্বজনদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোংলা ইপিজেডের ‘গুয়াংজু হুয়া ফাং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিডি’ কোম্পানির শ্রমিক মো. গোলাম রসুল কারখানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় অসাবধানতাবশত মেশিনের ভেতরে পড়ে যান। এতে কনুই থেকে তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে যথাযথ ও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।

বক্তাদের দাবি, কারখানায় শ্রমিক স্বল্পতার কারণে গোলাম রসুলকে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের এই অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার কারণেই আজ একটি তাজা প্রাণ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
আজ সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ। সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ রুস্তম আলী ও আবু হানিফ শেখ, নাগরিক নেতা নাজমুল হক, আসাদুজ্জামান টিটো, ছাত্রনেতা শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, আরাফাত হোসেন দুর্জয় এবং পরিবেশকর্মী মেহেদী হাসান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গোলাম রসুলকে সারা জীবন পঙ্গুত্ব বরণ করে বেঁচে থাকতে হবে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি চিরতরে কর্মহীন হয়ে পড়ায় পুরো পরিবারটি এখন চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অবিলম্বে গোলাম রসুলের সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ইপিজেড ও সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয় এলাকাবাসী।