আলী আজীম, মোংলা (বাগেরহাট):
তারুণ্য ও সংগ্রামের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মোংলায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ রবিবার (২১ জুন) সকাল ৯টায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে মিঠাখালী বাজার থেকে কবির বাড়ি পর্যন্ত একটি শোক র্যালি বের হয়। র্যালিটি কবির গ্রামের বাড়ি উপজেলার মিঠাখালী বাজার প্রদক্ষিণ করে তার কবরস্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কবির কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় কবির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনসহ দোয়া মোনাজাত করা হয়। পরে রুদ্রের বাড়ির বকুলতলায় রুদ্র স্মরণানুষ্ঠান ও মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও রুদ্রের গড়া সংগঠন অন্তর বাজাওয়ের শিল্পীরা রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও গানের আয়োজন করে।

কবির স্মরণ সভায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের রুদ্রের অনুজ সুমেল সারাফাতের সভাপতিত্বে মিঠাখালী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান ছোট মনি, মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ, রুদ্র স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ২০২৪ সালে সরকার কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
মাত্র ৩৫ বছরের জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। ‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দুই বছর ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
Reporter Name 




















