০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে নামাজরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় পাহারা দিচ্ছে হিন্দু সহপাঠীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৩ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।
ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্যাম্পাসে রমজান মাসে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের জন্ম হয়েছে। মুসলিম শিক্ষার্থীরা নামাজ আদায় করছেন, আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানববন্ধন করে ঘিরে রেখেছেন হিন্দু শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি স্থানীয় গণমাধ্যম ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো লাল বড়দারি মসজিদ কমপ্লেক্সকে ঘিরে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মসজিদটিতে তালা লাগিয়ে দেয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, লাল বড়দারি ভবন কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত এবং সেখানে অবস্থিত ব্যাংক, ক্লাব ও ক্যান্টিনও খালি করতে হবে। গেট তালাবদ্ধ করে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ভবনের ভেতরের মসজিদটি আরও বেশি জরাজীর্ণ ও আংশিক নির্মাণাধীন হওয়ায় সেখানে প্রবেশ নিরাপদ নয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই ভবনটি ১৮০০ সালে নবাব নাসিরুদ্দিন হায়দার নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া-এর সংরক্ষিত স্থাপনার আওতায় রয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই রমজান মাসে মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে নামাজের সময় হলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করেনএ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকায় নামাজে বাধা আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে মুসলিম সহপাঠীদের চারপাশে অবস্থান নেন। সম্প্রীতির এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মসজিদ বন্ধের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কংগ্রেসের সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের চেয়ারম্যান ও রাজ্যসভার সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ী-এর সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
পরে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রতাপগড়ী বলেন, শতাব্দীপ্রাচীন এই মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের অংশ। শিক্ষার্থীদের না জানিয়েই দরজা ঝালাই করে সিল করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং অবিলম্বে এলাকা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বড়দারি কমপ্লেক্সের ভেতরে অন্যান্য কার্যক্রম চলছিল, যা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মেধাবী প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক অ্যালেন কেন অস্ত্র তুলে নিলেন

লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে নামাজরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় পাহারা দিচ্ছে হিন্দু সহপাঠীরা

Update Time : ০৬:৩৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।
ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্যাম্পাসে রমজান মাসে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের জন্ম হয়েছে। মুসলিম শিক্ষার্থীরা নামাজ আদায় করছেন, আর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানববন্ধন করে ঘিরে রেখেছেন হিন্দু শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি স্থানীয় গণমাধ্যম ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো লাল বড়দারি মসজিদ কমপ্লেক্সকে ঘিরে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মসজিদটিতে তালা লাগিয়ে দেয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, লাল বড়দারি ভবন কমপ্লেক্সটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত এবং সেখানে অবস্থিত ব্যাংক, ক্লাব ও ক্যান্টিনও খালি করতে হবে। গেট তালাবদ্ধ করে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ভবনের ভেতরের মসজিদটি আরও বেশি জরাজীর্ণ ও আংশিক নির্মাণাধীন হওয়ায় সেখানে প্রবেশ নিরাপদ নয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই ভবনটি ১৮০০ সালে নবাব নাসিরুদ্দিন হায়দার নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া-এর সংরক্ষিত স্থাপনার আওতায় রয়েছে।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই রমজান মাসে মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে নামাজের সময় হলে মুসলিম শিক্ষার্থীরা মসজিদের বাইরে নামাজ আদায় করেনএ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকায় নামাজে বাধা আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে মুসলিম সহপাঠীদের চারপাশে অবস্থান নেন। সম্প্রীতির এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মসজিদ বন্ধের ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কংগ্রেসের সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের চেয়ারম্যান ও রাজ্যসভার সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ী-এর সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
পরে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রতাপগড়ী বলেন, শতাব্দীপ্রাচীন এই মসজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের অংশ। শিক্ষার্থীদের না জানিয়েই দরজা ঝালাই করে সিল করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং অবিলম্বে এলাকা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বড়দারি কমপ্লেক্সের ভেতরে অন্যান্য কার্যক্রম চলছিল, যা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।