১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ Time View

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ আন্তজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে অব্যবস্থাপনার জেরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নগরের ঈদগাহ এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য ও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর নগরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা।

বাংলাদেশ আন্তজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের এ ঘটনার পর নগরের কদমতলী, সাগরিকা, অলংকার ও একেখান এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ থাকায় এসব স্থান থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ভোটাররা অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে ভোট গ্রহণ চলছিল। তবে ভোটকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার কারণে ভোট দিতে দেরি হওয়া ও জাল ভোটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও শ্রমিকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি সকাল থেকে ভালো ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটারদের ভিড় বাড়লে শুরু হয় অব্যবস্থাপনা। সাড়ে তিন হাজার ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্রে বুথ ছিল একটি। এই এক বুথেই আলাদাভাবে ৬০ প্রার্থীকে ভোট দিতে হচ্ছিল। এ সময় তীব্র গরম ও বুথ সংকটের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ শুরু হয়। সেখান থেকে আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমি সহ আমাদের তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁরা বর্তমানে দামপাড়া পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

ডবলমুড়িং জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার খায়রুল বাসার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাড়ে তিন হাজার ভোটারের জন্য বুথ ছিল একটি। বিভিন্ন জেলা থেকে ভোটাররা এসেছিলেন ভোট দিতে। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অদক্ষতার ফলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে করে নির্বাচন স্থগিত করা হলে ক্ষেপে যান শ্রমিকরা। সেখান থেকে হট্টগোলের শুরু হলে তাঁরা আমাদের অফিসারদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারেন। আমরা সে সময় কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান এবং নগরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার ভিপি নজরুল ইসলাম লিটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ হাজার ৫৬১ জন। কিন্তু সে অনুপাতে ব্যবস্থাপনা না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে আমরা আড়াইটার দিকে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করি। এরপর থেকে তাঁরা সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন করছেন।’ শ্রমিকদের ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান এই কমিশনার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্প ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, শ্রমিকদের সংঘর্ষে আহত দুজন চমেকে চিকিৎসাধীন আছেন। সামান্য আঘাত পাওয়ায় তাঁদের ক্যাজুয়ালিটিতে ভর্তি রাখা হয়েছে।

আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষক দলেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইটপাটকেল ছোড়ার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। তখন পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।’

সড়ক অবরোধের ব্যাপারে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, একেখান ও সাগরিকা এলাকায় শ্রমিকেরা এক ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ রেখে অবরোধ করেন। পরে আমরা আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ

Update Time : ১১:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ আন্তজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে অব্যবস্থাপনার জেরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নগরের ঈদগাহ এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য ও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর নগরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা।

বাংলাদেশ আন্তজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের এ ঘটনার পর নগরের কদমতলী, সাগরিকা, অলংকার ও একেখান এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ থাকায় এসব স্থান থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ভোটাররা অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে ভোট গ্রহণ চলছিল। তবে ভোটকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনার কারণে ভোট দিতে দেরি হওয়া ও জাল ভোটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও শ্রমিকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি সকাল থেকে ভালো ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটারদের ভিড় বাড়লে শুরু হয় অব্যবস্থাপনা। সাড়ে তিন হাজার ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্রে বুথ ছিল একটি। এই এক বুথেই আলাদাভাবে ৬০ প্রার্থীকে ভোট দিতে হচ্ছিল। এ সময় তীব্র গরম ও বুথ সংকটের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ শুরু হয়। সেখান থেকে আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে আমি সহ আমাদের তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁরা বর্তমানে দামপাড়া পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

ডবলমুড়িং জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার খায়রুল বাসার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাড়ে তিন হাজার ভোটারের জন্য বুথ ছিল একটি। বিভিন্ন জেলা থেকে ভোটাররা এসেছিলেন ভোট দিতে। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অদক্ষতার ফলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে করে নির্বাচন স্থগিত করা হলে ক্ষেপে যান শ্রমিকরা। সেখান থেকে হট্টগোলের শুরু হলে তাঁরা আমাদের অফিসারদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারেন। আমরা সে সময় কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান এবং নগরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার ভিপি নজরুল ইসলাম লিটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ হাজার ৫৬১ জন। কিন্তু সে অনুপাতে ব্যবস্থাপনা না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে আমরা আড়াইটার দিকে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করি। এরপর থেকে তাঁরা সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন করছেন।’ শ্রমিকদের ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান এই কমিশনার।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্প ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, শ্রমিকদের সংঘর্ষে আহত দুজন চমেকে চিকিৎসাধীন আছেন। সামান্য আঘাত পাওয়ায় তাঁদের ক্যাজুয়ালিটিতে ভর্তি রাখা হয়েছে।

আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষক দলেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইটপাটকেল ছোড়ার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। তখন পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।’

সড়ক অবরোধের ব্যাপারে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, একেখান ও সাগরিকা এলাকায় শ্রমিকেরা এক ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ রেখে অবরোধ করেন। পরে আমরা আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।