০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীতে কিশোরী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৫

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮৫ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।
নরসিংদীর মাধবদীতে গণধর্ষণের পর আমেনা নামে এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের-১১, সিপিএসসি, নরসিংদী এবং জেলা পুলিশ, নরসিংদীর যৌথ অভিযানে এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার মাধবদী থানাধীন কোতালিচর হোসেন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নরসিংদী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বার্তায় গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
র‌্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কোতোয়ালীরচর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে মোঃ এবাদুল্লাহ (৪০), বিলপাড় এলাকার আজগর আলীর ছেলে মোঃ আইয়ুব (৩০), হোসেন বাজার এলাকার নাজির এর ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) তার ছেলে মোঃ ইমরান দেওয়ান (৩২) অপর একজনের নাম জানা যায়নি।

নিহত আমেনার বাবা ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আমেনার মা মাধবদী থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কোতোয়ালীরচর মাধবদীর মাদুর বাড়ী এলাকার শাহজাহান এর ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) এর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী নিহত আমেনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে প্রায়ই আমেনাকে তার বাসায় নিয়ে যেত।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার দিকে নূরা কৌশলে আমেনাকে মাধবদী থানাধীন মহিষাসুরা ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর এলাকায় চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭)সহ অন্যরা আমেনাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং কাউকে না জানাতে হুমকি দেয়।

পরদিন চৈতি মিলের ব্যবস্থাপক শ্যামল (৪৬) এর মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে আমেনার মা তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নিলেও আসামিরা স্থানীয় ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে জানানো হয়। এতে আহামমদ আলী মেম্বার তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, নূরার সৎ ভাই ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০), গ্রাম সরকার আবু তাহের (৫০) ও মোঃ আইয়ুব (৩০)-সহ আমেনাদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং বিচারের আশ্বাস দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় স্থানীয় আহাম্মদ আলী মেম্বারগণ মূল আসামিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিচার না করে বাদী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন।

গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরার নেতৃত্বে আরও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে রাতে খোঁজাখুঁজি করেও আমেনার সন্ধান পায়নি।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর দড়িকান্দী এলাকায় মোঃ জাকির হোসেনের সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল, ঠোঁট ও মুখ রক্তাক্ত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর থেকেই র‌্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদী ও জেলা পুলিশের যৌথ দল অভিযানে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচ এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আজ তাদের আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত আমেনার পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাধে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রহস্যে ঘেরা কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যু; মাঠে পুলিশের একাধিক টিম

নরসিংদীতে কিশোরী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৫

Update Time : ০৫:০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।
নরসিংদীর মাধবদীতে গণধর্ষণের পর আমেনা নামে এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের-১১, সিপিএসসি, নরসিংদী এবং জেলা পুলিশ, নরসিংদীর যৌথ অভিযানে এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার মাধবদী থানাধীন কোতালিচর হোসেন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নরসিংদী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বার্তায় গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
র‌্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কোতোয়ালীরচর গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে মোঃ এবাদুল্লাহ (৪০), বিলপাড় এলাকার আজগর আলীর ছেলে মোঃ আইয়ুব (৩০), হোসেন বাজার এলাকার নাজির এর ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) তার ছেলে মোঃ ইমরান দেওয়ান (৩২) অপর একজনের নাম জানা যায়নি।

নিহত আমেনার বাবা ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আমেনার মা মাধবদী থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কোতোয়ালীরচর মাধবদীর মাদুর বাড়ী এলাকার শাহজাহান এর ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) এর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী নিহত আমেনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে প্রায়ই আমেনাকে তার বাসায় নিয়ে যেত।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার দিকে নূরা কৌশলে আমেনাকে মাধবদী থানাধীন মহিষাসুরা ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর এলাকায় চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭)সহ অন্যরা আমেনাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং কাউকে না জানাতে হুমকি দেয়।

পরদিন চৈতি মিলের ব্যবস্থাপক শ্যামল (৪৬) এর মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে আমেনার মা তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নিলেও আসামিরা স্থানীয় ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে জানানো হয়। এতে আহামমদ আলী মেম্বার তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, নূরার সৎ ভাই ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০), গ্রাম সরকার আবু তাহের (৫০) ও মোঃ আইয়ুব (৩০)-সহ আমেনাদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং বিচারের আশ্বাস দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় স্থানীয় আহাম্মদ আলী মেম্বারগণ মূল আসামিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিচার না করে বাদী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন।

গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছলে নূরার নেতৃত্বে আরও ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে রাতে খোঁজাখুঁজি করেও আমেনার সন্ধান পায়নি।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর দড়িকান্দী এলাকায় মোঃ জাকির হোসেনের সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল, ঠোঁট ও মুখ রক্তাক্ত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর থেকেই র‌্যাব-১১, সিপিএসসি, নরসিংদী ও জেলা পুলিশের যৌথ দল অভিযানে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচ এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আজ তাদের আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত আমেনার পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাধে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন