০৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়োগ ঝুলে থাকায় ক্ষোভ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান সুপারিশপ্রাপ্তদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। গতকাল শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাঁরা রাজধানীর মিরপুর-২ এ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে নতুন করে কর্মসূচি শুরু করেছেন। লিখিত নিয়োগসংক্রান্ত ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা ১২টার পর থেকেই প্রার্থীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখর হয়ে জড়ো হন। এ সময় তাঁদের ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’ সহ নিয়োগপত্রের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

‎‎আন্দোলনকারীরা জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো নোটিশ বা স্পষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না।
‎রুনা আক্তার নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা সব প্রক্রিয়া শেষ করেছি। মেডিকেল, কাগজপত্র জমা সব। তারপরও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখন আর আশ্বাসে ভরসা নেই, লিখিত সিদ্ধান্ত চাই।’

‎এর আগে গতকাল শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান। তবে এই আশ্বাসে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন প্রার্থীরা।

‎আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত সুপারিশের পর তাঁরা প্রয়োজনীয় সব ধাপ সম্পন্ন করেছেন। অনেকেই যোগদানের আশায় আগের চাকরি ছেড়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে রয়েছেন।

নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের গণ-অবস্থাননিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের গণ-অবস্থান
‎মিরপুরে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আরেক প্রার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু বারবার সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এটা আমাদের সঙ্গে প্রহসনের মতো।’ ‎

‎উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ (রাজস্ব খাতভুক্ত) প্রক্রিয়ায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। এই নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ব্যতীত দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ঢাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলুর জামিন বাতিল

নিয়োগ ঝুলে থাকায় ক্ষোভ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান সুপারিশপ্রাপ্তদের

Update Time : ০২:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। গতকাল শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) তাঁরা রাজধানীর মিরপুর-২ এ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে নতুন করে কর্মসূচি শুরু করেছেন। লিখিত নিয়োগসংক্রান্ত ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁরা।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা ১২টার পর থেকেই প্রার্থীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে মুখর হয়ে জড়ো হন। এ সময় তাঁদের ‘দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই’ সহ নিয়োগপত্রের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

‎‎আন্দোলনকারীরা জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো নোটিশ বা স্পষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না।
‎রুনা আক্তার নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা সব প্রক্রিয়া শেষ করেছি। মেডিকেল, কাগজপত্র জমা সব। তারপরও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখন আর আশ্বাসে ভরসা নেই, লিখিত সিদ্ধান্ত চাই।’

‎এর আগে গতকাল শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান। তবে এই আশ্বাসে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন প্রার্থীরা।

‎আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত সুপারিশের পর তাঁরা প্রয়োজনীয় সব ধাপ সম্পন্ন করেছেন। অনেকেই যোগদানের আশায় আগের চাকরি ছেড়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপে রয়েছেন।

নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের গণ-অবস্থাননিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের গণ-অবস্থান
‎মিরপুরে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আরেক প্রার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু বারবার সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এটা আমাদের সঙ্গে প্রহসনের মতো।’ ‎

‎উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ (রাজস্ব খাতভুক্ত) প্রক্রিয়ায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। এই নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ব্যতীত দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি।