০৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ কম, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ৯০ হাজার গ্রাহক দুর্ভোগে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৮ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

খুলনার পাইকগাছায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের আওতাধীন প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অতি সম্প্রতি লোডশেডিং নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য ও প্রতিবাদের জেরে পাইকগাছা ও কয়রায় দুই যুবককে আটক করার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত কোনো নিয়ম ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে পুরো এলাকা। উপজেলা সদরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সরবরাহ আরও কম।

গজালিয়া গ্রামের আক্কাস আলী ঢালী অভিযোগ করেন, দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। তীব্র গরমে প্রবীণ ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা কাঁচামাল এবং মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা।

ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কলেজ শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান জানায়, রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে কোনোমতে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এই উপজেলায় বিদ্যুতের মূল সরবরাহ লাইনটি এসেছে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের খুলনা থেকে (৩৩ কেভি লাইন)। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসায় এই লাইনে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি ও ভোল্টেজ ড্রপ (কম ভোল্টেজ) দেখা দেয়। দূরত্বের কারণে লাইন মেরামত করতেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। ফলে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পাইকগাছায় প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের গড় চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৭ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম হওয়ায় উপকেন্দ্রের মাধ্যমে রোটেশন বা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।

ডিজিএম আরও জানান, পাইকগাছায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাওয়ার গ্রিড স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে এবং মূল কাজটি এখন টেন্ডার (দরপত্র) প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই গ্রিডের নির্মাণকাজ শেষ হলে পাইকগাছা ও কয়রা অঞ্চলে বিদ্যুতের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

এদিকে লোডশেডিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পাওয়ার গ্রিডের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকগাছায় চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ কম, ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ৯০ হাজার গ্রাহক দুর্ভোগে

Update Time : ১২:৫২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

খুলনার পাইকগাছায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের আওতাধীন প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অতি সম্প্রতি লোডশেডিং নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য ও প্রতিবাদের জেরে পাইকগাছা ও কয়রায় দুই যুবককে আটক করার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত কোনো নিয়ম ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে পুরো এলাকা। উপজেলা সদরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সরবরাহ আরও কম।

গজালিয়া গ্রামের আক্কাস আলী ঢালী অভিযোগ করেন, দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। তীব্র গরমে প্রবীণ ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা কাঁচামাল এবং মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা।

ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কলেজ শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান জানায়, রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে কোনোমতে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এই উপজেলায় বিদ্যুতের মূল সরবরাহ লাইনটি এসেছে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের খুলনা থেকে (৩৩ কেভি লাইন)। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসায় এই লাইনে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি ও ভোল্টেজ ড্রপ (কম ভোল্টেজ) দেখা দেয়। দূরত্বের কারণে লাইন মেরামত করতেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। ফলে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পাইকগাছায় প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে প্রতিদিন বিদ্যুতের গড় চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৭ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম হওয়ায় উপকেন্দ্রের মাধ্যমে রোটেশন বা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।

ডিজিএম আরও জানান, পাইকগাছায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাওয়ার গ্রিড স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে এবং মূল কাজটি এখন টেন্ডার (দরপত্র) প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই গ্রিডের নির্মাণকাজ শেষ হলে পাইকগাছা ও কয়রা অঞ্চলে বিদ্যুতের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

এদিকে লোডশেডিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পাওয়ার গ্রিডের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।