সবুজদিন রিপোর্ট।।
বাংলাদেশ লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী, আপনি যে চেয়ারে বসে আছেন, ওই চেয়ারে কিছুদিন আগে শেখ হাসিনাও বসা ছিল। ওই চেয়ারে আপনি বসেছেন ১৪শ শহীদের রক্ত পেরিয়ে। আপনাকে মনে রাখতে হবে এই শহীদরা কী চেয়েছে।
আজ (শনিবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ইরান বলেন, “এই শহীদরা শুধুমাত্র ভাতা চায়নি, তারা শুধুমাত্র স্বীকৃতি চায়নি, তারা চেয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশ; যে বাংলাদেশে শোষণ থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে। আমরা সেই ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, এই সরকার যদি সত্যিকারে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের ওপর দায়িত্ব আসবে এগিয়ে যাওয়ার। তেল নেই, বিদ্যুৎ নেই, লোডশেডিং, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আজকে যেভাবে শুরু হয়েছে-আগামী জুলাইয়ে আমরা নতুন করে আবারও সবকিছু নিয়ে এগিয়ে যাব।”
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “আপনার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দীর্ঘ ১৬ বছর কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আপনার সাথেও ৬ বছর কাজ করেছি। কিন্তু তাতে মনে হয়নি যে আপনারা ক্ষমতা পেলে বদলে যাবেন।”
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “আজ বিএনপির দিকে তাকালে মনে হয় না যে বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি বা জিয়াউর রহমানের বিএনপি আজকে ক্ষমতায় আছে। আজকে দেখেছি যে আপনার পাশে বসে সালাহউদ্দিন সাহেব ইশারা-ইঙ্গিতে যেভাবে যা বলেন, আপনিও তাই করেন এবং সালাহউদ্দিন সাহেব সমস্ত কিছু পরিচালনা করেন। তিনি আজ ‘সবজান্তা শমসের’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি এই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আমাদের চোখের সামনে যেভাবে উপস্থাপনা করেছেন, সংবিধানের বিষয়ে যেভাবে কথা বলেছেন, সংসদে গিয়ে তার কথা উল্টে গেছে। আমরা আশা করব বিগত ৫ আগস্ট যে অভ্যুত্থান হয়েছে, এ দেশের ছাত্র-জনতার সম্মেলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন স্বপ্ন আমরা বুনেছি, তা সফল হবে।”
ইরান বলেন, “আজকে বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করেছিল যে জুলাইয়ের চেতনা আপনারা বাস্তবায়ন করবেন। আজ দেখলাম যে হাত নেই, পা নেই-এমন শহীদ পরিবারের সদস্যদের একটাই আর্তনাদ যে তারা গণভোটের বাস্তবায়ন চায়। আর বিএনপিকে দেখলাম আজ সেই আওয়ামী লীগের দেখানো পথে ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে গণভোটের প্রশ্নগুলো আপনারা আবার পড়বেন। সেখানে উল্লেখ আছে যে সংবিধান পরিবর্তনের জন্য এই নিম্নকক্ষে সিদ্ধান্ত হলেই হবে না, উচ্চকক্ষেও তা পাস হতে হবে। এজন্য বিএনপি উচ্চকক্ষ করতে চায় না। তারা জানে যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের কায়দায় তারাও এখানে তাদের কর্তৃত্ববাদী একনায়ক শাসন কায়েম করতে চায়।”
Reporter Name 
























