০৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বমানের সেনাবাহিনী গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: সেনাপ্রধান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৬ Time View

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য দক্ষ, চৌকস, মেধাবী এবং একবিংশ শতাব্দীর নেতৃত্বের উপযোগী কর্মকর্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুগত্য, শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের চারজন, তানজানিয়ার একজন, জাম্বিয়ার একজন এবং মালদ্বীপের একজন ক্যাডেট বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণের পাশাপাশি কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন। একই সঙ্গে সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য তিনি ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদেশি ক্যাডেটদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর।

পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকেরা তাদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধানকে স্বাগত জানান ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড ও কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে নবগঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই ব্যাটালিয়নটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি নবনির্মিত সিএমএইচ, ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিএমএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, অফিসার ক্যাডেট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

স্টেডিয়ামের পরিছন্নতা কর্মীদের বেতন বাড়ালেন তামিম ইকবাল

বিশ্বমানের সেনাবাহিনী গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: সেনাপ্রধান

Update Time : ০২:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সবুজদিন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য দক্ষ, চৌকস, মেধাবী এবং একবিংশ শতাব্দীর নেতৃত্বের উপযোগী কর্মকর্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এ প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুগত্য, শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের চারজন, তানজানিয়ার একজন, জাম্বিয়ার একজন এবং মালদ্বীপের একজন ক্যাডেট বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণের পাশাপাশি কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন। একই সঙ্গে সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য তিনি ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিদেশি ক্যাডেটদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর।

পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকেরা তাদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধানকে স্বাগত জানান ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড ও কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে নবগঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই ব্যাটালিয়নটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি নবনির্মিত সিএমএইচ, ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিএমএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, অফিসার ক্যাডেট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।