০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ১০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের প্রথম প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার (এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক) হলেন ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর তিনি কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হন।
স্পেসএক্স তাদের আইপিওতে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মূল্যায়নে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। নাসডাকে ‘SPCX’ টিকার নামে লেনদেন শুরু হলে এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হবে।
আইপিও-পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী, ইলন মাস্কের কাছে থাকবে প্রায় ৮৪৯.৫ মিলিয়ন ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫.৫৭ বিলিয়ন ক্লাস-বি শেয়ার। এতে কোম্পানির ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ তার হাতে থাকবে।

শুধু স্পেসএক্সে তার মালিকানার কাগুজে মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলায় তার প্রায় ৭১৭.১ মিলিয়ন শেয়ারের মূল্য বর্তমান বাজারদরে প্রায় ২৮৬.২ বিলিয়ন ডলার।

দুই কোম্পানিতে তার মোট শেয়ারমূল্য যোগ করলে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে এই সম্পদের বেশিরভাগই শেয়ারভিত্তিক এবং বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শেয়ারের দাম ওঠানামার সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।

স্পেসএক্সের নথি অনুযায়ী, দ্রুত রাজস্ব বাড়লেও কোম্পানিটি এখনো লাভজনক নয়। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি। তবে একই সময়ে নিট মুনাফা থেকে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার লোকসানে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স বর্তমানে শুধু মহাকাশযান উৎক্ষেপণ নয়, স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো, মহাকাশভিত্তিক কম্পিউটিং এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের মতো প্রকল্প নিয়েও কাজ করছে।

এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর আইপিও ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড়। স্পেসএক্স সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে।

টেসলা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কারণে ইলন মাস্ক আগেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের এই আইপিও তার সম্পদের কাগুজে মূল্যকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা এর আগে কোনো ব্যক্তি অর্জন করতে পারেননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

Update Time : ০৩:০২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের প্রথম প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার (এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক) হলেন ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর তিনি কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হন।
স্পেসএক্স তাদের আইপিওতে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মূল্যায়নে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। নাসডাকে ‘SPCX’ টিকার নামে লেনদেন শুরু হলে এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হবে।
আইপিও-পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী, ইলন মাস্কের কাছে থাকবে প্রায় ৮৪৯.৫ মিলিয়ন ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫.৫৭ বিলিয়ন ক্লাস-বি শেয়ার। এতে কোম্পানির ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ তার হাতে থাকবে।

শুধু স্পেসএক্সে তার মালিকানার কাগুজে মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলায় তার প্রায় ৭১৭.১ মিলিয়ন শেয়ারের মূল্য বর্তমান বাজারদরে প্রায় ২৮৬.২ বিলিয়ন ডলার।

দুই কোম্পানিতে তার মোট শেয়ারমূল্য যোগ করলে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে এই সম্পদের বেশিরভাগই শেয়ারভিত্তিক এবং বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শেয়ারের দাম ওঠানামার সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।

স্পেসএক্সের নথি অনুযায়ী, দ্রুত রাজস্ব বাড়লেও কোম্পানিটি এখনো লাভজনক নয়। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি। তবে একই সময়ে নিট মুনাফা থেকে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার লোকসানে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স বর্তমানে শুধু মহাকাশযান উৎক্ষেপণ নয়, স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো, মহাকাশভিত্তিক কম্পিউটিং এবং মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের মতো প্রকল্প নিয়েও কাজ করছে।

এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর আইপিও ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড়। স্পেসএক্স সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে।

টেসলা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কারণে ইলন মাস্ক আগেই বিশ্বের শীর্ষ ধনী ছিলেন। তবে স্পেসএক্সের এই আইপিও তার সম্পদের কাগুজে মূল্যকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা এর আগে কোনো ব্যক্তি অর্জন করতে পারেননি।