০৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সময় কি সত্যিই ফুরিয়ে গেছে রোনালদোর!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৬ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলে একসময় গোল, গতি আর অদম্য মানসিকতার প্রতীক ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তিনি ছিলেন এক আতঙ্কের নাম। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পর সেই কিংবদন্তিকে ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে- পর্তুগালের জন্য তিনি এখনও সম্পদ, নাকি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন বোঝা? সময় কি সত্যিই ফুরিয়ে গেছে রোনালদোর!

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গঠন ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি। তবুও কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনি। গোলের সামনে ব্যর্থতার অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠেন দলের অধিনায়ক রোনালদো।

৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ম্যাচে ২৫ বার বল স্পর্শ করলেও লক্ষ্যভেদী কোনো শট নিতে পারেননি। আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি ছিল অনেকটাই ম্লান। যে ফুটবলার একসময় একাই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারতেন, তাকে দেখা গেল প্রায় অদৃশ্য ভূমিকায়।

ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি বলেন, ‘দলের গোল দরকার, তোমার ব্যক্তিগত গোল নয়।’ মন্তব্যটি যেন পর্তুগালের বর্তমান বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

পরিসংখ্যানও রোনালদোর পক্ষে কথা বলছে না। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বড় আসরে টানা ১০ ম্যাচ ধরে গোলহীন তিনি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রায় পুরো সময় মাঠে থেকেও তার দল পেয়েছে মাত্র একটি গোল।

বয়সের ছাপ এখন স্পষ্ট রোনালদোর খেলায়। আগের মতো বিস্ফোরক গতি, ড্রিবলিং কিংবা রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আর নেই। সময়ের সঙ্গে তিনি পরিণত হয়েছেন বক্সনির্ভর স্ট্রাইকারে। কিন্তু সুযোগ না পেলে কিংবা ছন্দে না থাকলে দলকে অতিরিক্ত কিছু দেওয়ার সামর্থ্যও সীমিত হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে পর্তুগালের মাঝমাঠে রয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনিয়া ও বার্নার্দো সিলভার মতো সৃজনশীল ফুটবলার। তারা নিয়মিত সুযোগ তৈরি করলেও সেই সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্বে থাকা রোনালদো যেন আগের ধার হারিয়ে ফেলেছেন।

তবে সমালোচনার মাঝেও রোনালদোর গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি এখনও দলের নেতা, অনুপ্রেরণার উৎস। তার অভিজ্ঞতা ও উপস্থিতি তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় প্রেরণা।

পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেসও অধিনায়কের ওপর আস্থা হারাননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘যখন গোল প্রয়োজন, তখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

বিশ্বকাপের পথ এখনও অনেক দীর্ঘ। একটি ম্যাচ দিয়েই কোনো কিংবদন্তির বিচার করা যায় না। তবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্কের মাঝেই ফেরারি কিনে আবারও সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে রণবীর

সময় কি সত্যিই ফুরিয়ে গেছে রোনালদোর!

Update Time : ১১:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলে একসময় গোল, গতি আর অদম্য মানসিকতার প্রতীক ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তিনি ছিলেন এক আতঙ্কের নাম। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পর সেই কিংবদন্তিকে ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে- পর্তুগালের জন্য তিনি এখনও সম্পদ, নাকি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন বোঝা? সময় কি সত্যিই ফুরিয়ে গেছে রোনালদোর!

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গঠন ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি। তবুও কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনি। গোলের সামনে ব্যর্থতার অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠেন দলের অধিনায়ক রোনালদো।

৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ম্যাচে ২৫ বার বল স্পর্শ করলেও লক্ষ্যভেদী কোনো শট নিতে পারেননি। আক্রমণভাগে তার উপস্থিতি ছিল অনেকটাই ম্লান। যে ফুটবলার একসময় একাই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দিতে পারতেন, তাকে দেখা গেল প্রায় অদৃশ্য ভূমিকায়।

ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি বলেন, ‘দলের গোল দরকার, তোমার ব্যক্তিগত গোল নয়।’ মন্তব্যটি যেন পর্তুগালের বর্তমান বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

পরিসংখ্যানও রোনালদোর পক্ষে কথা বলছে না। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বড় আসরে টানা ১০ ম্যাচ ধরে গোলহীন তিনি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রায় পুরো সময় মাঠে থেকেও তার দল পেয়েছে মাত্র একটি গোল।

বয়সের ছাপ এখন স্পষ্ট রোনালদোর খেলায়। আগের মতো বিস্ফোরক গতি, ড্রিবলিং কিংবা রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আর নেই। সময়ের সঙ্গে তিনি পরিণত হয়েছেন বক্সনির্ভর স্ট্রাইকারে। কিন্তু সুযোগ না পেলে কিংবা ছন্দে না থাকলে দলকে অতিরিক্ত কিছু দেওয়ার সামর্থ্যও সীমিত হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে পর্তুগালের মাঝমাঠে রয়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনিয়া ও বার্নার্দো সিলভার মতো সৃজনশীল ফুটবলার। তারা নিয়মিত সুযোগ তৈরি করলেও সেই সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্বে থাকা রোনালদো যেন আগের ধার হারিয়ে ফেলেছেন।

তবে সমালোচনার মাঝেও রোনালদোর গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি এখনও দলের নেতা, অনুপ্রেরণার উৎস। তার অভিজ্ঞতা ও উপস্থিতি তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় প্রেরণা।

পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেসও অধিনায়কের ওপর আস্থা হারাননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘যখন গোল প্রয়োজন, তখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

বিশ্বকাপের পথ এখনও অনেক দীর্ঘ। একটি ম্যাচ দিয়েই কোনো কিংবদন্তির বিচার করা যায় না। তবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।