০৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামনের সারিতে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে লাগবে ৫ লাখ টাকা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০৩ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক,

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটমূল্য প্রকাশের পর থেকেই সমালোচনার মুখে রয়েছে ফিফা। বিশেষ করে ‘চলমান মূল্য নির্ধারণ’ পদ্ধতির কারণে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচের টিকিটের দাম আলাদা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমর্থকেরা। এর মধ্যেই গ্যালারির সামনের সারিতে বসে খেলা দেখার জন্য নতুন করে নির্ধারিত টিকিটমূল্য আরও চমকে দিয়েছে সবাইকে। এখন একেকটি আসনের জন্য গুনতে হবে ৪১০৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ লাখ টাকারও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাগতিক দলের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য ক্যাটাগরি-১ এর সামনের সারির আসনের এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও একই ম্যাচের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ২৭৩৫ ডলার। নতুন করে ‘সামনের সারি’ নামে আলাদা একটি স্তর যুক্ত করায় দাম আরও বেড়েছে।

এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন। তার আগের দিন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আজতেকা স্টেডিয়াম-এ, যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-এর।

এছাড়া টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ‘সামনের সারি ক্যাটাগরি-২’ নামে আরও একটি নতুন স্তর যুক্ত করা হয়েছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৪০ থেকে ২৩৩০ ডলার পর্যন্ত। বিষয়টি প্রথম সামনে আনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক।

এর আগে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত টিকিট সংক্রান্ত তথ্যপত্রে ফিফা ক্যাটাগরি-১ আসনকেই সর্বোচ্চ মূল্যমানের হিসেবে উল্লেখ করেছিল, যা সাধারণত মাঠের নিচের স্তরে থাকে। নতুন এই পরিবর্তনে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু আসন আলাদা করে আরও উচ্চমূল্যের নতুন শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-এর ম্যাচের জন্য সামনের সারির ক্যাটাগরি-১ আসনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৩৬০ ডলার।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর জন্য ফিলাডেলফিয়া-এ ৯০৫ ডলারের টিকিটও রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে পুনরায় টিকিট বিক্রির সময় নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার মধ্যেই বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের মূল্য আরও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলার নির্ধারণ করেছে ফিফা, যা আগে ছিল ৮৬৮০ ডলার।

ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়াম-এ। এই ম্যাচের ক্যাটাগরি-২ টিকিটের মূল্য বাড়িয়ে ৭৩৮০ ডলার এবং ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭৮৫ ডলার। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফিফার টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে ফাইনালের কোনো টিকিট এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটিই দর্শকে পূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

সমালোচনার মুখে পড়ে গত ডিসেম্বর ‘সমর্থক প্রবেশ স্তর’ নামে নতুন একটি ক্যাটাগরি চালু করা হয়েছিল, যেখানে কিছু টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বিক্রি করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ বিক্রিতে সেই টিকিট আর দেখা যায়নি, সেগুলো আদৌ বিক্রি হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে এই মেগা আসরের আয়োজন করছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

সামনের সারিতে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে লাগবে ৫ লাখ টাকা

Update Time : ০৫:০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক,

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটমূল্য প্রকাশের পর থেকেই সমালোচনার মুখে রয়েছে ফিফা। বিশেষ করে ‘চলমান মূল্য নির্ধারণ’ পদ্ধতির কারণে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচের টিকিটের দাম আলাদা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমর্থকেরা। এর মধ্যেই গ্যালারির সামনের সারিতে বসে খেলা দেখার জন্য নতুন করে নির্ধারিত টিকিটমূল্য আরও চমকে দিয়েছে সবাইকে। এখন একেকটি আসনের জন্য গুনতে হবে ৪১০৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ লাখ টাকারও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাগতিক দলের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য ক্যাটাগরি-১ এর সামনের সারির আসনের এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও একই ম্যাচের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ২৭৩৫ ডলার। নতুন করে ‘সামনের সারি’ নামে আলাদা একটি স্তর যুক্ত করায় দাম আরও বেড়েছে।

এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন। তার আগের দিন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আজতেকা স্টেডিয়াম-এ, যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-এর।

এছাড়া টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ‘সামনের সারি ক্যাটাগরি-২’ নামে আরও একটি নতুন স্তর যুক্ত করা হয়েছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৪০ থেকে ২৩৩০ ডলার পর্যন্ত। বিষয়টি প্রথম সামনে আনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক।

এর আগে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত টিকিট সংক্রান্ত তথ্যপত্রে ফিফা ক্যাটাগরি-১ আসনকেই সর্বোচ্চ মূল্যমানের হিসেবে উল্লেখ করেছিল, যা সাধারণত মাঠের নিচের স্তরে থাকে। নতুন এই পরিবর্তনে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু আসন আলাদা করে আরও উচ্চমূল্যের নতুন শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-এর ম্যাচের জন্য সামনের সারির ক্যাটাগরি-১ আসনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৩৬০ ডলার।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর জন্য ফিলাডেলফিয়া-এ ৯০৫ ডলারের টিকিটও রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে পুনরায় টিকিট বিক্রির সময় নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার মধ্যেই বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের মূল্য আরও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলার নির্ধারণ করেছে ফিফা, যা আগে ছিল ৮৬৮০ ডলার।

ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়াম-এ। এই ম্যাচের ক্যাটাগরি-২ টিকিটের মূল্য বাড়িয়ে ৭৩৮০ ডলার এবং ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭৮৫ ডলার। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফিফার টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে ফাইনালের কোনো টিকিট এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটিই দর্শকে পূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

সমালোচনার মুখে পড়ে গত ডিসেম্বর ‘সমর্থক প্রবেশ স্তর’ নামে নতুন একটি ক্যাটাগরি চালু করা হয়েছিল, যেখানে কিছু টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বিক্রি করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ বিক্রিতে সেই টিকিট আর দেখা যায়নি, সেগুলো আদৌ বিক্রি হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে এই মেগা আসরের আয়োজন করছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।