০৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামে ভারতীয় বাহিনীর বিমান বিধ্বস্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৩ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে অবতরণের আগমুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের আগমুহূর্তে ‘এএন-৩২’ বিমানটি স্টেশন চত্বরের ভেতরেই আচড়ে পড়ে। এতে সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবা দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা-ও এখনো পরিষ্কার নয়।

ভারতীয় বিমানবাহিনী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিমানবাহিনী।

এ বিষয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বিবৃতিতে জানান দুর্ঘটনার খবর সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য তারা অপেক্ষা করছেন।

সামরিক পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘এএন-৩২’ বিমানটিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বা ‘ওয়ার্কহর্স’ বলা হয়ে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়নে বিশেষভাবে ভারতের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল এই টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ বিমানটি। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে এ ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।

‘এএন-৩২’ বিমানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশ, বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বিমানঘাঁটি কিংবা তীব্র উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতেও এই বিমান সফলভাবে চলতে পারে। এটি সর্বোচ্চ সাড়ে সাত টন কার্গো, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাসুটার বহন করতে সক্ষম। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামরিক রসদ ও মালামাল সরবরাহের কাজে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে গত ৫ মার্চ জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকেই একটি নিয়মিত ফ্লাইটের অংশ হিসেবে দুই আসনবিশিষ্ট সুখোই যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল। পরে রাত পৌনে আটটার দিকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। এতে দুই পাইলট নিহত হয়েছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামে ভারতীয় বাহিনীর বিমান বিধ্বস্ত

Update Time : ০৪:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ শনিবার সকালে অবতরণের আগমুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের আগমুহূর্তে ‘এএন-৩২’ বিমানটি স্টেশন চত্বরের ভেতরেই আচড়ে পড়ে। এতে সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবা দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা-ও এখনো পরিষ্কার নয়।

ভারতীয় বিমানবাহিনী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বিমানবাহিনী।

এ বিষয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বিবৃতিতে জানান দুর্ঘটনার খবর সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। বিস্তারিত তথ্যের জন্য তারা অপেক্ষা করছেন।

সামরিক পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘এএন-৩২’ বিমানটিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বা ‘ওয়ার্কহর্স’ বলা হয়ে থাকে। সোভিয়েত ইউনিয়নে বিশেষভাবে ভারতের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল এই টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ বিমানটি। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে এ ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।

‘এএন-৩২’ বিমানটি চরম প্রতিকূল পরিবেশ, বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বিমানঘাঁটি কিংবা তীব্র উষ্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুতেও এই বিমান সফলভাবে চলতে পারে। এটি সর্বোচ্চ সাড়ে সাত টন কার্গো, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাসুটার বহন করতে সক্ষম। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামরিক রসদ ও মালামাল সরবরাহের কাজে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে গত ৫ মার্চ জোরহাট বিমানঘাঁটি থেকেই একটি নিয়মিত ফ্লাইটের অংশ হিসেবে দুই আসনবিশিষ্ট সুখোই যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল। পরে রাত পৌনে আটটার দিকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কার্বি আংলং জেলার একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। এতে দুই পাইলট নিহত হয়েছিলেন।