সবুজদিন রিপোর্ট।।
ঈদের তৃতীয় দিনেও থামেনি সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর ব্যস্ততা। কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণকে ঘিরে শিল্পনগরীজুড়ে চলছে কর্মচাঞ্চল্য। একের পর এক ট্রাকে করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাঁচা চামড়া এসে পৌঁছাচ্ছে ট্যানারি এলাকায়।
সকাল ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, মোট ১ হাজার ৭১২টি ট্রাকে করে শিল্পনগরীতে এসেছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৬টি চামড়া। এর মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়ার সংখ্যা ৫ লাখ ১১ হাজার ৫৪০টি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া রয়েছে ১৬ হাজার ১৩৬টি। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান।
শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দিন থেকেই ট্যানারি কারখানাগুলোতে ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে। কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, লবণ প্রয়োগ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের কাজ চলছে বিরামহীনভাবে। শ্রমিকদেরও দেখা গেছে চামড়া নামানো ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত থাকতে।
তবে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের এই ব্যস্ততার মধ্যেই সামনে এসেছে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা। ট্যানারিগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলেও এর শোধন ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা থাকলেও কোরবানির মৌসুমে উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার। ফলে অতিরিক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হওয়ায় পাশের ধলেশ্বরী নদী দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ট্যানারি এলাকাজুড়ে কোরবানির মৌসুমকে কেন্দ্র করে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান জানান, ঈদ উপলক্ষে চামড়া শিল্পনগরীর সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় বিসিক, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চামড়া বোঝাই যানবাহনের নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবকও নিয়োজিত করা হয়েছে।
Reporter Name 
























