১১:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার দিনে অপহৃত ২৮ জেলে সুন্দরবনসংলগ্ন সাগরে আতঙ্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৯ Time View

স্টাফ রিপোর্টার
সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে চার দিনের মধ্যে দুই দফায় জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৮ জেলে। তাদের মধ্যে আটজন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেও ট্রলারসহ ২০ জেলে এখনও জিম্মি। এ অবস্থায় দুই দিন ধরে সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন জেলেরা। এতে করে মাছ আহরণ, শুঁটকি উৎপাদন ও বাজার সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, প্রথম দফায় শুক্রবার রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলের সাগরে একটি ট্রলারসহ আট জেলেকে অপহরণ করে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার মধ্যরাতে দুবলারচরসংলগ্ন পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রে জেলেদের বহরে অতর্কিত হামলা চালায় শরীফ বাহিনী। তারা দুটি ট্রলার, জালসহ আরও ২০ জেলেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।
বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মিল্টন রায় বুধবার জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে অপহরণের শিকার আট জেলে মাথাপিছু ৭০-৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে দুবলারচরের শুঁটকিপল্লিতে ফিরেছেন। তবে সোমবার রাতে অপহৃত নারিকেলবাড়িয়া চরের শংকর বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের দুটি ট্রলারসহ ২০ জেলে এখনও জিম্মি। ফিরে আসা জেলেরা তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন, মুক্তিপণ চেয়ে জলদস্যুরা জিম্মিদের নিয়মিত মারধর করছে। তারা দ্রুত টাকা না দিলে হত্যারও হুমকি দিচ্ছে।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সোমবার রাতে নারিকেলবাড়িয়া চরসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আটটি ট্রলার থেকে আট জেলেকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। অপহৃত জেলেরা হলেনু হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫), তুষার বিশ্বাস (৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮) ও উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। একই রাতে আমবাড়িয়ার খাড়ি এলাকায় ১২টি ট্রলার থেকে আরও ১২ জেলেকে তুলে নেয় দস্যুরা। তাদের মধ্যে রয়েছেনু কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলে বর্তমান শুঁটকি মৌসুমে অবস্থান করছেন প্রায় ১০-১২ হাজার জেলে। সাম্প্রতিক অপহরণ ও দস্যু তৎপরতায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যে কারণে দুই দিন ধরে জেলেরা সমুদ্রে যাচ্ছেন না। এতে করে শুঁটকি উৎপাদন ও বাজার সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জেলেরা দ্রুত সময়ের মধ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার ও সাগরে স্থায়ী নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
কোস্টগার্ড পশ্চিম (মোংলা) জোনের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তাকে কয়েক দফায় কল দিলেও তিনি ধরেননি। তবে কোস্টগার্ডের একটি সূত্রে জানা গেছে, জিম্মি জেলেদের উদ্ধার ও সাগর এলাকায় দস্যু দমনে দ্রুতই অভিযানের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশ্নফাঁসের প্রচারণাটি স্রেফ গুজব: শিক্ষামন্ত্রী

চার দিনে অপহৃত ২৮ জেলে সুন্দরবনসংলগ্ন সাগরে আতঙ্ক

Update Time : ১২:৪০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার
সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে চার দিনের মধ্যে দুই দফায় জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন ২৮ জেলে। তাদের মধ্যে আটজন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেও ট্রলারসহ ২০ জেলে এখনও জিম্মি। এ অবস্থায় দুই দিন ধরে সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন জেলেরা। এতে করে মাছ আহরণ, শুঁটকি উৎপাদন ও বাজার সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, প্রথম দফায় শুক্রবার রাতে সুন্দরবনসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলের সাগরে একটি ট্রলারসহ আট জেলেকে অপহরণ করে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার মধ্যরাতে দুবলারচরসংলগ্ন পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রে জেলেদের বহরে অতর্কিত হামলা চালায় শরীফ বাহিনী। তারা দুটি ট্রলার, জালসহ আরও ২০ জেলেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।
বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির কর্মকর্তা মিল্টন রায় বুধবার জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে অপহরণের শিকার আট জেলে মাথাপিছু ৭০-৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে দুবলারচরের শুঁটকিপল্লিতে ফিরেছেন। তবে সোমবার রাতে অপহৃত নারিকেলবাড়িয়া চরের শংকর বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের দুটি ট্রলারসহ ২০ জেলে এখনও জিম্মি। ফিরে আসা জেলেরা তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন, মুক্তিপণ চেয়ে জলদস্যুরা জিম্মিদের নিয়মিত মারধর করছে। তারা দ্রুত টাকা না দিলে হত্যারও হুমকি দিচ্ছে।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সোমবার রাতে নারিকেলবাড়িয়া চরসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে আটটি ট্রলার থেকে আট জেলেকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। অপহৃত জেলেরা হলেনু হরিদাস বিশ্বাস (৫০), গোপাল বিশ্বাস (৪৫), রমেশ বিশ্বাস (৫০), প্রশান্ত বিশ্বাস (৪৮), শংকর বিশ্বাস (৩৫), তুষার বিশ্বাস (৪০), মনিরুল বিশ্বাস (৪৮) ও উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস (৪৫)। একই রাতে আমবাড়িয়ার খাড়ি এলাকায় ১২টি ট্রলার থেকে আরও ১২ জেলেকে তুলে নেয় দস্যুরা। তাদের মধ্যে রয়েছেনু কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস।
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলে বর্তমান শুঁটকি মৌসুমে অবস্থান করছেন প্রায় ১০-১২ হাজার জেলে। সাম্প্রতিক অপহরণ ও দস্যু তৎপরতায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যে কারণে দুই দিন ধরে জেলেরা সমুদ্রে যাচ্ছেন না। এতে করে শুঁটকি উৎপাদন ও বাজার সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জেলেরা দ্রুত সময়ের মধ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার ও সাগরে স্থায়ী নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
কোস্টগার্ড পশ্চিম (মোংলা) জোনের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তাকে কয়েক দফায় কল দিলেও তিনি ধরেননি। তবে কোস্টগার্ডের একটি সূত্রে জানা গেছে, জিম্মি জেলেদের উদ্ধার ও সাগর এলাকায় দস্যু দমনে দ্রুতই অভিযানের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।