বি এম রাকিব হাসান, খুলনা:
জমে উঠছে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার পশুর হাট। ইতোমধ্যে প্রতিদিন এসব হাটে শত কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে পশু ক্রেতারা এখন ছোট ছোট গ্রামীণ খামারের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে পশুর হাটের ভিড় ও ভোগান্তি এড়াতে ব্যস্ত মানুষজন গ্রামাঞ্চলের খামার থেকেই স্বাচ্ছন্দ্যে গরু-ছাগল কিনছেন। ইতোমধ্যে কোরবানির পশু বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়েছে এবং খুলনা বিভাগের সকল জেলার পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। এ সুযোগে প্রতারক চক্র ও ফড়িয়ারা গ্রামে ঢুকে গরু কেনার নামে জাল টাকার ব্যবহারও বাড়াচ্ছে।
সূত্রমতে, কোরবানির পশু বিক্রির সুবিধার্থে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার মোট ১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচালিত নগরের জোড়াগেট হাটসহ অন্তত ২৭টি হাট খুলনায় স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া বাগেরহাটে ২৯টি, সাতক্ষীরায় ১৬, যশোরে ২০, ঝিনাইদহে ২২টি, মাগুরায় ১৫, নড়াইলে ১০, কুষ্টিয়ায় ১৭, চুয়াডাঙ্গায় আট ও মেহেরপুরে ছয়টি হাট স্থাপন করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের স্থাপন করা এসব হাটে পশুর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪২টি পশুচিকিৎসা দল দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. গোলাম হায়দার। এদিকে ঈদুল আজহার আর দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই গবাদিপশু ব্যবসায়ীরা এসব সাপ্তাহিক হাটে পশু আনতে শুরু করেছেন।
হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নদী ও সড়কপথে পশু আনা হয় এ হাটে। একই সঙ্গে হাটের পাশেই পশুর খাদ্য- গমের ভুসি, পাতার ভুসি, ধানের ভুসি, খইল, শুকনা খড় ও তাজা ঘাস ও আনুষঙ্গিক পণ্য নিয়ে বসেন মৌসুমি বিক্রেতারা। তাদের কাছে চাটাই, টুকরি, গাছের গুঁড়ি, রঙিন মালা ইত্যাদি পাওয়া যায়।
২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খুলনা সিটি করপোরেশন ঈদের আগের সপ্তাহজুড়ে হাটটির আয়োজন করে। কারণ শহরে পশু রাখার জায়গার সংকট থাকায় নগরবাসী ঈদের এক-দুই দিন আগে গরু কেনাকাটায় বেশি আগ্রহী হন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. গোলাম হায়দার বলেন, এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদার প্রায় পুরোটাই স্থানীয়ভাবে পালিত পশু দিয়ে মেটানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার। খামারিরা ঈদকে সামনে রেখে ১৪ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি পশু পালন করেছেন। যা চাহিদার ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেশি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সব পশুর মধ্যে আছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬১টি গরু, ৪ হাজার ৮৯টি মহিষ, ৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০টি ছাগল, ৫১ হাজার ১৭৩টি ভেড়া ও ২১৬টি অন্যান্য প্রাণী। গত বছর বিভাগজুড়ে ১৬৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা হয়েছিল এবং ১৫২টি পশুচিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছিল। ১০ লাখ ৪৬ হাজার চাহিদার বিপরীতে মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কোরবানির পশু পালন করা হয়েছিল। ১১ লাখের বেশি কোরবানির পশু বিক্রি হয়।
খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: জয়নব বলেন, পশুর হাটগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বাড়ানো হবে সিসিটিভি নজরদারি, চেকপোস্ট ও ভ্রাম্যমাণ টহল। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাফেরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু হাটের ভেতর নয়, আশপাশের সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, অস্থায়ী আবাসিক এলাকা ও পার্কিং স্পটগুলোতেও বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। কারণ প্রতারক চক্রগুলো সাধারণত হাটের বাইরের এলাকাগুলোকে বেশি টার্গেট করে। এদিকে নগদ লেনদেনের পাশাপাশি এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্রতারণা। মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট জনপ্রিয় হওয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা ভুয়া স্ক্রিনশট দেখিয়ে বা ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে টাকা পাঠানোর অভিনয় করে পশু নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
জোরাগেট পশুর হাটের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সিসিটিভি নজরদারি স্থাপন, মেডিকেল টিম মোতায়েন এবং জাল মুদ্রা শনাক্তকরণে সেবা প্রদান করবে বলে জানান কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।
Reporter Name 





















