০২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেল সংকটে লাইটার জাহাজ, কোটি কোটি টাকার পণ্য নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯১ Time View

মোংলা সংবাদদাতা ।।

জ্বালানি তেল সংকটের কারণে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জ্বালানির অভাবে অধিকাংশ লাইটার জাহাজ অলস বসে থাকায় মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা ও অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাচ্ছে। এতে জরিমানা হিসেবে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। সব মিলিয়ে আমদানিকৃত খাদ্যশস্য, সার ও শিল্প কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোংলা বন্দরের পশুর নদে শত শত খালি লাইটার নোঙর করে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। একই অবস্থা খুলনা রূপসা, চার ও পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায়। সেখানেও রয়েছে শত শত খালি লাইটার জাহাজ। এমন পরিস্থিতিতে লাইটার সংকট দেখা দিয়েছে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে। মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে কল-কারখানাগুলোতে কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
‘এমভি আর রশিদ-১’ লাইটার জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা পণ্যবোঝাই করতে যেতে পারেনি। তাদের লাইটারটি এক সপ্তাহ খালি অবস্থায় বসিয়ে রাখতে হয়েছিলো।

খুলনার রূপসা এলাকায় অবস্থানরত ‘সেভেন সার্কেল সিমেন্ট’ ফ্যাক্টরির উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, বন্দরে সিমেন্টের কাঁচামাল নিয়ে আসা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে লাইটার সংকটে নির্দিষ্ট সময়ে আমদানি পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে প্রতিদিন বাণিজ্যিক জাহাজকে ১৭ হাজার ডলার বিলম্ব মাশুল দিতে হচ্ছে। একইসঙ্গে তাদের সিমেন্ট কারখানায় কাচামালের সংকট দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে লাইটার সংকটে কারখানার উৎপাদিত সিমেন্ট দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো যাচ্ছে না। ‘শেখ সিমেন্ট’ কারখানার এজিএম আজাদুল হক জানান, লাইটারে জ্বালানি সংকটে বন্দরে অবস্থানরত ব্যণিজ্যিক জাহাজ থেকে ক্লিংকার তাদের কারখানায় নিতে পারছেন না। তাদের মালিকানা সিমেন্ট ও অটোরাইস মিলে চরম কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছে।
‘এমভি মিমাতাজ; লাইটার জাহাজের মালিক মো. খোকন জানান, তার মালিকানাধীন লাইটারে তেল সরবরাহের জন্য মোংলা বাজারে তেল ব্যবসায়ী ‘এসকে এন্টারপ্রাইজকে’ বলা হয়েছে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ডিপো থেকে তাদের ডিলারকে চাহিদা মতো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই তারা আমাদেরকে তেল দিতে পারছে না। একই রকম অবস্থা সব লাইটারগুলোতে।
তিনি জানান, তেল না পেয়ে পণ্যবোঝাই করতে লাইটার পাঠাতে পারছেন না।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মোংলাস্থ মেরিন ডিলার ও এজেন্ট মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল জানান, বর্তমান সরকার খাল খনন, নদী ড্রেজিং, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিসহ নানামুখী কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। এর ফলে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোংলা বন্দরে জাহাজ আগম বেড়ে যাওয়ায় আগের চেয়ে বেশি লাইটার জাহাজ জ্বালানি তেল নিতে মোংলায় আসছে। কিন্তু চাহিদা অনুয়ায়ী ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই আমরা তেল দিতে পারছি না।
মোংলাস্থ মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী প্রবীর হীরা জানান, আমরা চেষ্টা করছি ডিলার বা এজেন্টদের তেল সরবরাহ করতে। তবে যেহেতু যুদ্ধের একটি প্রভাব রয়েছে। সেই কারণে তেলের প্রাপ্যতা কম থাকায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সরবরাহ করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মালদ্বীপ পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

জ্বালানি তেল সংকটে লাইটার জাহাজ, কোটি কোটি টাকার পণ্য নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

Update Time : ০৫:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

মোংলা সংবাদদাতা ।।

জ্বালানি তেল সংকটের কারণে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জ্বালানির অভাবে অধিকাংশ লাইটার জাহাজ অলস বসে থাকায় মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা ও অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাচ্ছে। এতে জরিমানা হিসেবে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। সব মিলিয়ে আমদানিকৃত খাদ্যশস্য, সার ও শিল্প কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোংলা বন্দরের পশুর নদে শত শত খালি লাইটার নোঙর করে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। একই অবস্থা খুলনা রূপসা, চার ও পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায়। সেখানেও রয়েছে শত শত খালি লাইটার জাহাজ। এমন পরিস্থিতিতে লাইটার সংকট দেখা দিয়েছে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে। মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে কল-কারখানাগুলোতে কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
‘এমভি আর রশিদ-১’ লাইটার জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা পণ্যবোঝাই করতে যেতে পারেনি। তাদের লাইটারটি এক সপ্তাহ খালি অবস্থায় বসিয়ে রাখতে হয়েছিলো।

খুলনার রূপসা এলাকায় অবস্থানরত ‘সেভেন সার্কেল সিমেন্ট’ ফ্যাক্টরির উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, বন্দরে সিমেন্টের কাঁচামাল নিয়ে আসা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে লাইটার সংকটে নির্দিষ্ট সময়ে আমদানি পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে প্রতিদিন বাণিজ্যিক জাহাজকে ১৭ হাজার ডলার বিলম্ব মাশুল দিতে হচ্ছে। একইসঙ্গে তাদের সিমেন্ট কারখানায় কাচামালের সংকট দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে লাইটার সংকটে কারখানার উৎপাদিত সিমেন্ট দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো যাচ্ছে না। ‘শেখ সিমেন্ট’ কারখানার এজিএম আজাদুল হক জানান, লাইটারে জ্বালানি সংকটে বন্দরে অবস্থানরত ব্যণিজ্যিক জাহাজ থেকে ক্লিংকার তাদের কারখানায় নিতে পারছেন না। তাদের মালিকানা সিমেন্ট ও অটোরাইস মিলে চরম কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছে।
‘এমভি মিমাতাজ; লাইটার জাহাজের মালিক মো. খোকন জানান, তার মালিকানাধীন লাইটারে তেল সরবরাহের জন্য মোংলা বাজারে তেল ব্যবসায়ী ‘এসকে এন্টারপ্রাইজকে’ বলা হয়েছে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ডিপো থেকে তাদের ডিলারকে চাহিদা মতো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই তারা আমাদেরকে তেল দিতে পারছে না। একই রকম অবস্থা সব লাইটারগুলোতে।
তিনি জানান, তেল না পেয়ে পণ্যবোঝাই করতে লাইটার পাঠাতে পারছেন না।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মোংলাস্থ মেরিন ডিলার ও এজেন্ট মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল জানান, বর্তমান সরকার খাল খনন, নদী ড্রেজিং, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিসহ নানামুখী কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। এর ফলে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোংলা বন্দরে জাহাজ আগম বেড়ে যাওয়ায় আগের চেয়ে বেশি লাইটার জাহাজ জ্বালানি তেল নিতে মোংলায় আসছে। কিন্তু চাহিদা অনুয়ায়ী ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই আমরা তেল দিতে পারছি না।
মোংলাস্থ মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী প্রবীর হীরা জানান, আমরা চেষ্টা করছি ডিলার বা এজেন্টদের তেল সরবরাহ করতে। তবে যেহেতু যুদ্ধের একটি প্রভাব রয়েছে। সেই কারণে তেলের প্রাপ্যতা কম থাকায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সরবরাহ করা হচ্ছে।