০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কোনটি বেশি ভালো— আতপ না সেদ্ধ চাল?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ১০১ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ডায়াবেটিস আছে মানেই ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে— এর কোনো ভিত্তি নেই। পরিমিত মাত্রা আর চাল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটু সজাগ থাকলেই ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে ভাত খেতে পারেন। আবার শুধু চিনি খাওয়ার কারণেই যে রক্তে শর্করা বাড়ে, তা কিন্তু নয়। অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণেও শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগবালাই।

ডায়াবেটিস তার মধ্যে অন্যতম। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে ডায়াবেটিস। বিশেষ করে খাওয়া-দাওয়ায় বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। ডায়াবেটিস থাকলে সুস্থ থাকতে খাওয়া-দাওয়ায় বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। রক্তে শর্করা বাড়ছে দেখে অনেকেই ভাত খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ ভাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর।

আর ডায়াবেটিস আছে মানেই ভাত খাওয়া বন্ধ, এর কোনো মানে নেই। পরিমিত মাত্রা আর চাল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটু সজাগ থাকলেই নিশ্চিন্তে ভাত খেতে পারবেন।

পারবয়েল্ড চাল দৈনন্দিন শক্তির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস বলে জানি। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়, আবার তুলনামূলকভাবে এতে থাকা বেশি ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এর পাশাপাশি থায়ামিন, নিয়াসিন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এই চালে স্বাভাবিকভাবেই বজায় থাকে, যা স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক। আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক,পারবয়েল্ড চালের গ্লাইসেমিক সূচক সাধারণ সেদ্ধ চালের তুলনায় কম। ফলে ভাত খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। ডায়াবেটিকদের জন্যও এটি স্বাস্থ্যকর।

বাঙালির হেঁশেলে সাধারণত দুই ধরনের চালই বেশি দেখা যায়। আতপ চাল আর সেদ্ধ চাল। এখন প্রশ্ন হলো— ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কোনটি বেশি ভালো? পুষ্টিবিদ মঞ্জিরা সান্যাল বলেন, সেদ্ধ চাল তৈরির সময় তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়, সেই তুলনায় আতপ চালে তেমন প্রক্রিয়া করা হয় না। আতপ চালে ভিটামিন বেশি থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই বেশি থাকে। ফলে সুগারের রোগীর জন্য প্রতিদিনের ডায়েটে আতপ চালের বদলে সেদ্ধ চাল রাখাই ভালো। তবে সেদ্ধ চালের থেকেও ভালো হয় যদি ডায়াবেটিস রোগীরা পারবয়েল্ড রাইস খান।

পারবয়েল্ড চাল তৈরির পদ্ধতিটি সাধারণ চালের থেকে একটু আলাদা। এ পদ্ধতিতে ধানের খোসা ছাড়ানোর আগে চালকে আংশিকভাবে সেদ্ধ করা হয়। বিশেষ এ প্রক্রিয়ার ফলে চালের ওপরের স্তরে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দানার ভেতরের অংশে পৌঁছে যায়। তাই প্রক্রিয়াকরণের পরও সাধারণ সাদা চালের তুলনায় পারবয়েল্ড চালে পুষ্টিগুণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সব পৌরসভায় ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কোনটি বেশি ভালো— আতপ না সেদ্ধ চাল?

Update Time : ১২:১৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ডায়াবেটিস আছে মানেই ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে— এর কোনো ভিত্তি নেই। পরিমিত মাত্রা আর চাল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটু সজাগ থাকলেই ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে ভাত খেতে পারেন। আবার শুধু চিনি খাওয়ার কারণেই যে রক্তে শর্করা বাড়ে, তা কিন্তু নয়। অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণেও শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগবালাই।

ডায়াবেটিস তার মধ্যে অন্যতম। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে ডায়াবেটিস। বিশেষ করে খাওয়া-দাওয়ায় বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। ডায়াবেটিস থাকলে সুস্থ থাকতে খাওয়া-দাওয়ায় বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। রক্তে শর্করা বাড়ছে দেখে অনেকেই ভাত খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ ভাতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, যা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর।

আর ডায়াবেটিস আছে মানেই ভাত খাওয়া বন্ধ, এর কোনো মানে নেই। পরিমিত মাত্রা আর চাল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটু সজাগ থাকলেই নিশ্চিন্তে ভাত খেতে পারবেন।

পারবয়েল্ড চাল দৈনন্দিন শক্তির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস বলে জানি। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়, আবার তুলনামূলকভাবে এতে থাকা বেশি ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এর পাশাপাশি থায়ামিন, নিয়াসিন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এই চালে স্বাভাবিকভাবেই বজায় থাকে, যা স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক। আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক,পারবয়েল্ড চালের গ্লাইসেমিক সূচক সাধারণ সেদ্ধ চালের তুলনায় কম। ফলে ভাত খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম। ডায়াবেটিকদের জন্যও এটি স্বাস্থ্যকর।

বাঙালির হেঁশেলে সাধারণত দুই ধরনের চালই বেশি দেখা যায়। আতপ চাল আর সেদ্ধ চাল। এখন প্রশ্ন হলো— ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কোনটি বেশি ভালো? পুষ্টিবিদ মঞ্জিরা সান্যাল বলেন, সেদ্ধ চাল তৈরির সময় তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায়, সেই তুলনায় আতপ চালে তেমন প্রক্রিয়া করা হয় না। আতপ চালে ভিটামিন বেশি থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই বেশি থাকে। ফলে সুগারের রোগীর জন্য প্রতিদিনের ডায়েটে আতপ চালের বদলে সেদ্ধ চাল রাখাই ভালো। তবে সেদ্ধ চালের থেকেও ভালো হয় যদি ডায়াবেটিস রোগীরা পারবয়েল্ড রাইস খান।

পারবয়েল্ড চাল তৈরির পদ্ধতিটি সাধারণ চালের থেকে একটু আলাদা। এ পদ্ধতিতে ধানের খোসা ছাড়ানোর আগে চালকে আংশিকভাবে সেদ্ধ করা হয়। বিশেষ এ প্রক্রিয়ার ফলে চালের ওপরের স্তরে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দানার ভেতরের অংশে পৌঁছে যায়। তাই প্রক্রিয়াকরণের পরও সাধারণ সাদা চালের তুলনায় পারবয়েল্ড চালে পুষ্টিগুণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।